মহো,২৭ অগস্ট : বর্তমান অনিশ্চিত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং জানিয়েছেন, দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে সকল ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে — তা স্বল্প-মেয়াদি সংঘর্ষ হোক কিংবা দীর্ঘ পাঁচ বছরের যুদ্ধ।
আজ মধ্যপ্রদেশের মহোতে অবস্থিত আর্মি ওয়ার কলেজে ‘রণ সংবাদ’ অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, “আজকের যুগে যুদ্ধ এত হঠাৎ এবং অনির্দেশ্যভাবে শুরু হয় যে কেউ বলতে পারে না, যুদ্ধ কখন শেষ হবে বা কতদিন চলবে। দুই মাস, চার মাস, এক বছর, এমনকি পাঁচ বছরও যদি যুদ্ধ চলে, তাহলে আমাদের প্রস্তুতি সেই অনুযায়ী থাকা উচিত।”
তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “ভারত কারও জমি দখল করতে চায় না, কিন্তু আমাদের ভূখণ্ড রক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ ত্যাগ দিতেও প্রস্তুত।”
এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে ভারতের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে ছিলেন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান, এয়ার চিফ মার্শাল এ পি সিং এবং নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল দিনেশ কে ত্রিপাঠী।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সফলতা নিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর প্রশংসা করেন এবং বলেন, এই অভিযান ভারতের দেশীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, প্রযুক্তি ও যুদ্ধ সক্ষমতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, “অপারেশন সিন্দুর দেখিয়ে দিয়েছে যে আত্মনির্ভরতা এখন আর শুধু একটি লক্ষ্য নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্যতা। আমরা আত্মনির্ভরতার পথে অনেকটা এগিয়েছি ঠিকই, তবে এখনও অনেকটা পথ বাকি।”
তিনি জানান, এই অভিযান প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধ কৌশলের উৎকৃষ্ট উদাহরণ। পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে ভারতীয় বাহিনীর দ্রুততা ও সাহসিকতায় পরিচালিত এই অভিযান প্রমাণ করে, দেশের সেনাবাহিনী যে কোনও পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম।
সার্বিকভাবে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে এক সুস্পষ্ট বার্তা— ভারতের প্রতিরক্ষা নীতির মূলমন্ত্র শান্তি হলেও, দেশের সীমান্ত এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে কোনও আপস নয়। সশস্ত্র বাহিনীকে প্রযুক্তিনির্ভর, আত্মনির্ভর এবং দীর্ঘমেয়াদী সংঘর্ষের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, এটাই হবে ভবিষ্যতের যুদ্ধ কৌশলের মূল ভিত।

