নতুন দিল্লি, ২২ আগস্ট: সদ্যসমাপ্ত বর্ষাকালীন অধিবেশনে ভারতের সংসদ পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করেছে, যা ঔপনিবেশিক যুগের প্রাচীন সামুদ্রিক আইনগুলিকে বাতিল করে আধুনিক ব্লু ইকোনমির পথ প্রশস্ত করবে। এই পাঁচটি বিলের মাধ্যমে বাণিজ্য দক্ষতা বৃদ্ধি, বৈশ্বিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য এবং পরিবেশবান্ধব নৌপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
পাঁচটি নতুন বিল হল, বিল অব ল্যাডিং, ২০২৫, ক্যারেজ অব গুডস বাই সি বিল ২০২৫, কোস্টাল শিপিং বিল, ২০২৫, মার্চেন্ট শিপিং বিল, ২০২৫,
ইন্ডিয়ান পোর্টস বিল, ২০২৫। কেন্দ্রীয় বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল এক্স (সাবেক টুইটার)-এ লিখেছেন, “ভারতের সামুদ্রিক যাত্রার এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত! প্রথমবার, এক অধিবেশনে নৌ ও জলপথ মন্ত্রকের ৫টি যুগান্তকারী বিল পাস হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী নেতৃত্বে ঔপনিবেশিক আইনকে বিদায় জানিয়ে আমরা আধুনিক ব্লু ইকোনমির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।
সংসদের সদ্যসমাপ্ত বর্ষাকালীন অধিবেশনে পাস হওয়া পাঁচটি ঐতিহাসিক বিল ভারতের সামুদ্রিক খাতে এক নতুন যুগের সূচনা করল। এই বিলগুলির মধ্যে রয়েছে বিল অব ল্যাডিং, ২০২৫; ক্যারেজ অব গুডস বাই সি বিল, ২০২৫; কোস্টাল শিপিং বিল, ২০২৫; মার্চেন্ট শিপিং বিল, ২০২৫ এবং ইন্ডিয়ান পোর্টস বিল, ২০২৫। প্রতিটি বিলেরই রয়েছে নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও তাৎপর্য। বিল অব ল্যাডিং, ২০২৫ আইনি নথিপত্র সহজতর করে ব্যবসায় স্বচ্ছতা আনার পাশাপাশি ‘ইজ অব ডুইং বিজনেস’ বাড়াতে সাহায্য করবে। ক্যারেজ অব গুডস বাই সি বিল, ২০২৫, ১৯২৫ সালের পুরনো আইন বাতিল করে নিয়ম চালু করেছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিরোধ কমাবে এবং ভারত-যুক্তরাজ্য সিইটিএ চুক্তির বাস্তবায়নে সহায়ক হবে। কোস্টাল শিপিং বিল, ২০২৫ উপকূলীয় নৌপরিবহন ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করে বছরে প্রায় ₹১০,০০০ কোটি পরিবহণ খরচ সাশ্রয় এবং সড়ক যানজট ও দূষণ হ্রাসে ভূমিকা রাখবে।
মার্চেন্ট শিপিং বিল, ২০২৫ আধুনিক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব জাহাজ চলাচলের পথ প্রশস্ত করবে এবং নাবিকদের কল্যাণ, জাহাজ নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষায় জোর দেবে। ইন্ডিয়ান পোর্টস বিল, ২০২৫, ১৯০৮ সালের আইন বাতিল করে রাজ্য-ভিত্তিক বন্দর উন্নয়নে অধিক ক্ষমতা প্রদান করবে এবং গঠিত হবে ‘মারিটাইম স্টেট ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল’ যা রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে সমন্বয় সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই বিলগুলি ডিজিটাল ইন্টিগ্রেশন, পরিবেশ সুরক্ষা, স্বচ্ছতা এবং বন্দর উন্নয়নের মাধ্যমে বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সবমিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘সাগরমালা’ প্রকল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই পাঁচটি বিল ভারতের ব্লু ইকোনমি গঠনে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

