সোনামুড়ায় ঝুলন্ত স্টিল ফুট ব্রিজের জরাজীর্ণ অবস্থা, বিপদ এড়াতে যাতায়াতে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা, দ্রুত সংস্কারের দাবিতে ডেপুটেশন ব্যবসায়ীদের

আগরতলা, ২১ আগস্ট : দীর্ঘদিন ধরে গোমতী নদীর উপর নির্মিত সোনামুড়ার ঝুলন্ত স্টিল ফুট ব্রিজটি এখন প্রায় বিপজ্জনক অবস্থায় পৌঁছে গেছে। ব্রীজটির দুরবস্থার কারণে বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় মহকুমা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তে সমস্যায় পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ফলে দ্রুত ব্রীজ সংস্কারের দাবিতে আজ মহকুমা শাসকের কাছে ডেপুটেশন দিলেন সোনামুড়া বাজারের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা।

স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর কথায়, এই ফুট ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে সোনামুড়া শহরের সঙ্গে দক্ষিণাংশের গ্রামগুলোর যোগাযোগের একমাত্র সহজ ও কার্যকর মাধ্যম ছিল। বহু মানুষ প্রতিদিন এই ব্রিজ ব্যবহার করতেন। কিন্তু দীর্ঘ অবহেলার ফলে ব্রীজটি এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও জানান, ব্রিজ বন্ধ হওয়ায় মূল বাজারে আসা ক্রেতা সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে গেছে। বিশেষ করে যেসব ক্রেতারা নদীর অপর দিক থেকে আসতেন, তাদের জন্য এখন বিকল্প পথ নেই। এতে ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বাজারের শতাধিক ছোট-বড় ব্যবসায়ী। বাজার ব্যবসায়ীদের দাবি, সামনেই দুর্গাপূজা এবং এরই সাথে শুরু হতে চলেছে উৎসবের মরসুম। এই সময়টাতেই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। কিন্তু ব্রিজটি বন্ধ থাকলে বিক্রি মার খাবে। ফলে আর্থিক দিক থেকেও চাপে পড়তে হবে ব্যবসায়ীদের।

এই পরিস্থিতিতে আজ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে গিয়ে একটি সাত দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি জমা দেন। এর প্রধান দাবিই ছিল, ব্রিজটি দ্রুত সংস্কার করে সাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হোক। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান, মহকুমা শাসক তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং বিষয়টি উর্ধ্বতন মহলের কাছে পাঠানোর আশ্বাস দেন। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, আশ্বাস নয়, প্রয়োজন দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপ।

প্রসঙ্গত, এই স্টিল ফুট ব্রিজটি শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বর্ষার সময় বন্যা পরিস্থিতিতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে এটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে শুধু ব্যবসা নয়, জনজীবনেও প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। সোনামুড়ার ব্যবসায়ী মহলের দাবি, প্রশাসন যেন অতিসত্বর পদক্ষেপ নিয়ে ঝুলন্ত ব্রিজটি সংস্কারের কাজ শুরু করে। না হলে দুর্গাপূজার মরসুমে ব্যবসায়িক ক্ষতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছাবে।