বন দপ্তরের অভিযানে পাচারকালে উদ্ধার সেগুন কাঠ

আগরতলা, ২০ আগস্ট: আবারও কাঠ পাচারের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করল বন দপ্তরের কর্মীরা। বুধবার ভোরে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযানে নেমে সেগুন কাঠ বোঝাই একটি মালবাহী গাড়ি আটক করে তারা। তবে চালককে আটক করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাটি ঘটে তারাকপুর বর্ডার রোড এলাকায়।

সূত্রের খবর, পানিসাগর এলাকা থেকে সন্দেহজনকভাবে চলাচলকারী টিআর০৫- এফ-১৬৬১ নম্বরের একটি বুলেরো গাড়ির পিছু নেয় বন দপ্তরের কর্মীরা। বনকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে চালক গাড়ির গতি বাড়িয়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরে তারাকপুর বর্ডার রোডে কাঠ বোঝাই গাড়িটি ফেলে চাবিসহ পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে বন দপ্তরের কর্মীরা বিপুল পরিমাণ সেগুন কাঠ উদ্ধার করে।

খবর পেয়ে কদমতলা থানার পুলিশ ও বিএসএফ-এর জওয়ানরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। ধর্মনগর মহকুমার বনদপ্তরের আধিকারিক রাকেশ দাস জানান, গাড়ি থেকে প্রায় ৮০ ফুট বিভিন্ন সাইজের সেগুন কাঠ উদ্ধার হয়েছে, যার বাজারমূল্য আনুমানিক এক লক্ষ টাকা। তবে এই পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত কাউকে এখনও গ্রেফতার করা যায়নি।

উল্লেখযোগ্য যে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ধর্মনগর মহকুমার বনদপ্তর এই পাচার চক্রের উপর নজরদারি চালাচ্ছিল। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বন দপ্তরের আধিকারিক রাকেশ দাস, বনরেঞ্জার সুপ্রিয় দেবনাথ, লালছড়া ফরেস্ট বিট ইনচার্জ অভিজিৎ দাস, চুড়াইবাড়ি ফরেস্ট বিট ইনচার্জ আশুতোষ মালাকার এবং জুরি ফরেস্ট ইউনিটের কর্মীরা।

রাকেশ দাস জানান, এসব কাঠ সম্ভবত সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকেই কেটে আনা হয়েছে। ইতিমধ্যেই বন আইনে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। খুব শিগগিরই দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

ধারাবাহিক অভিযানে বন দপ্তরের সাফল্যে খুশি জেলার পরিবেশপ্রেমীরা। বন দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে যাতে কেউ আর বেআইনিভাবে কাঠ পাচারের সাহস না পায়।