আগরতলা, ৯ আগস্ট: ঊনকোটি জেলার আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতির অভিযোগ তুললেন সিপিআই(এম) জেলা সম্পাদক কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী। শনিবার দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, “৬ আগস্ট রাতে কৈলাসহরের রামকৃষ্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শ্রীরামপুর সূর্যমণি স্মৃতি দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয় ও শতবর্ষ প্রাচীন আরকেআই স্কুলে চুরির ঘটনা ঘটে। এর কিছু দিন আগে রাতে কুমারঘাটের লেদ্রাইদেওয়ান স্কুলেও চুরি হয়। কিন্তু পুলিশ কোনও ঘটনাতেই কিনারা করতে পারেনি। এটা প্রমাণ করে প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে নীরব রয়েছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, “রামকৃষ্ণ মহাবিদ্যালয়ে ছাত্র-শিক্ষকরা এবিভিপি-র দুষ্কৃতিদের হাতে নিয়মিত নিগৃহীত হচ্ছেন। কলেজের অধ্যক্ষ পর্যন্ত বাজার ফেরার পথে মারধরের শিকার হয়েছেন। শ্রীরামপুর স্কুলে দুই ছাত্রকে ‘এসএফআই করবে কেন’ অজুহাতে বহিরাগতরা মারধর করেছে, কিন্তু পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।”
শিক্ষা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে চৌধুরী বলেন,“বামফ্রন্ট আমলে শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে বই স্কুলে পৌঁছাত, অথচ এবার ষান্মাসিক পরীক্ষার এক মাস আগে বই দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক স্বল্পতা ও অবৈজ্ঞানিক পাঠক্রম শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ ধ্বংস করছে।”
মাদক নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “ড্রাগ মাফিয়ারা দিব্যি ব্যবসা চালাচ্ছে। চুরি, ছিনতাই, হামলার নেপথ্যে মাদকাসক্তরা জড়িত। পুলিশ অভিযোগও নেয় না, এফআইআর করতেও অস্বীকৃতি জানায়।”
পুরনো ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, “২০২৩ সালে চণ্ডীপুর অঞ্চল কমিটির অফিসে হামলা হয়েছিল, ২০১৮-তে প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী বৈদ্যনাথ মজুমদারের মূর্তি ভাঙা হয়। এপ্রিলে সেই স্থানে অনুমতি ছাড়াই রামের মূর্তি বসানো হয়েছে। অপরাধী শনাক্ত হয়েও রাজনৈতিক প্রভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”
চৌধুরীর বক্তব্যে অভিযোগ, “দিনের অপরাধীরা যেমন নিশ্চিন্তে ঘুরছে, তেমনি রাতের অপরাধীরাও পাচ্ছে নিরাপত্তা। প্রশাসন নিজেই এই অবনতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে।”

