অসমের কাছাড়ে বড়সড় মাদক উদ্ধার অভিযান: ৭ কোটি টাকার মাদক জব্দ, গ্রেফতার ৫

গুয়াহাটি, ৫ আগস্ট : অসমের কাছাড় জেলায় পুলিশের দুটি পৃথক অভিযানে ৭ কোটিরও বেশি টাকার মাদক উদ্ধার হয়েছে। এই অভিযানে মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে অসম পুলিশ। উদ্ধার হওয়া মাদকের মধ্যে রয়েছে ২১৬ গ্রাম হেরোইন, ২০,০০০ ইয়াবা ট্যাবলেট এবং দুটি গাড়ি যা মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

অসম পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই দুই অভিযান পরিকল্পনা করা হয়েছিল গোপন সূত্রে পাওয়া নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে। কাছাড় জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, ধৃত পাঁচজনই একটি সক্রিয় মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া পাচারকারীরা দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মাধ্যমে মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং এদের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক অভিযোগ ছিল।

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই সাফল্যের জন্য অসম পুলিশকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি নিজের সরকারি এক্স অ্যাকাউন্টে লিখেছেন: “৭ কোটি টাকার মাদক, এখন ধোঁয়ায় উড়ে গেছে!@assampolice অটল রয়েছে – অসমে মাদকের কোনও স্থান নেই!”

তিনি আরও বলেন, রাজ্য সরকার মাদকমুক্ত অসম গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর এবং ভবিষ্যতেও এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।

উদ্ধার হওয়া ইয়াবা ট্যাবলেট এক ধরনের সিন্থেটিক মাদক, যা মেথঅ্যামফেটামিন ও ক্যাফেইনের মিশ্রণ। এটি ভারতে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং তফসিল II নিয়ন্ত্রিত পদার্থ হিসেবে চিহ্নিত। ইয়াবা ট্যাবলেট মূলত যুব সমাজের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে যার ফলে এটি এখন প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে, হেরোইন একটি অত্যন্ত আসক্তিকর মাদক, যা সেবনের ফলে মানসিক ভারসাম্যহীনতা, শারীরিক ক্ষয় এবং চরম আসক্তির জন্ম দেয়। এর পরিণতি অনেক সময় মৃত্যু পর্যন্ত গড়াতে পারে।

অসম পুলিশ বিগত কয়েক বছর ধরেই মাদক বিরোধী অভিযান জোরদার করেছে। রাজ্যের নানা প্রান্তে একের পর এক সফল অভিযানে বড় বড় মাদক চক্র ধরা পড়েছে। মাদক পাচার রোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে পুলিশ প্রশাসন।

এই অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে অসম পুলিশের ডিজি (ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ) বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র মাদক জব্দ নয়, বরং মাদক পাচারকারী চক্রকে সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা। আমরা প্রতিটি স্তরে নজরদারি বাড়িয়েছি এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে আরও অভিযানের পরিকল্পনা করছি।”

মাদক বিরোধী অভিযান সফল করতে স্থানীয় প্রশাসন এবং সচেতন নাগরিক সমাজও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পুলিশের দাবি, অনেক ক্ষেত্রেই জনগণের দেয়া তথ্য অভিযানের সাফল্যে মুখ্য ভূমিকা নিয়েছে। নাগরিকদের সহযোগিতা ছাড়া এত বড় সাফল্য সম্ভব হতো না।

যদিও এই সাফল্য প্রশাসনের জন্য বড় অর্জন, তবুও মাদক পাচার রোধে চ্যালেঞ্জ এখনো বিদ্যমান। বিশেষ করে মিয়ানমার সীমান্ত, দক্ষিণ আসাম, এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু রুট ব্যবহার করে অবৈধ মাদক ভারতে প্রবেশ করছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। এই রুটগুলি বন্ধ করতে কেন্দ্র এবং রাজ্য স্তরে আরও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

এই অভিযানে ৭ কোটির বেশি টাকার মাদক জব্দ এবং পাচারচক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করে অসম পুলিশ আবারও প্রমাণ করলো যে তারা মাদকবিরোধী যুদ্ধে অটল। সরকারের দৃঢ় অবস্থান, পুলিশের তৎপরতা এবং জনগণের সহযোগিতার মাধ্যমে অসমকে মাদকমুক্ত করার প্রচেষ্টা আরও জোরদার হল। তবে চূড়ান্ত সফলতার জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, শিক্ষার প্রসার, এবং আসক্তদের জন্য পুনর্বাসন ব্যবস্থার উন্নয়ন।