রাজ ঠাকরে ১৩ বছর পর মাতোশ্রীতে উদ্ধব ঠাকরেকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে আসেন

মুম্বই, ২৭ জুলাই: মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা নেতা রাজ ঠাকরে মঙ্গলবার এক ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক মাইলফলক হিসেবে মাতোশ্রীতে ফিরে যান, যা ছিল তাঁর প্রয়াত চাচা বাল ঠাকরের বাসভবন। ১৩ বছর পর এই প্রথম রাজ ঠাকরে মাতোশ্রীতে প্রবেশ করলেন এবং তাঁর চাচাতো ভাই, শিব সেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরেকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন।
রাজ ঠাকরে তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, “আমার বড় ভাই, শিব সেনা প্রধান শ্রী উদ্ধব ঠাকরের জন্মদিন উপলক্ষে মাতোশ্রী, প্রয়াত শ্রী বালাসাহেব ঠাকরের বাসভবনে গিয়ে আমার শুভেচ্ছা জানালাম।”
এদিন রাজ ঠাকরে উধব ঠাকরেকে গোলাপ ফুল উপহার দেন এবং তাদের এই মিলনমেলা ২০০৬ সালে শিব সেনা ত্যাগ করার পর প্রথমবারের মতো ঘটল। সেই সময় রাজ ও উধব ঠাকরের রাজনৈতিক পথভ্রষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে দুই পরিবার প্রায় দুই দশক ধরে একে অপরের বিরোধী হয়ে উঠেছিল।
রাজ ঠাকরেকে এই সফরে সঙ্গে ছিলেন এমএনএস-এর শীর্ষস্থানীয় নেতারা, বালা নন্দগাঁওকার এবং নিতিন সারদেসাই।
মাতোশ্রীতে এই সাক্ষাৎ ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত, তবে দুই ভাইয়ের মধ্যে এক চিত্র ধারণের দৃশ্য দেখে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ওঠে। অনেকেই মনে করছেন, এটাই কি পুনর্মিলনের প্রথম পদক্ষেপ?
এ মাসের শুরুর দিকে, রাজ ও উদ্ধব ঠাকরে একযোগে মঞ্চে দাঁড়িয়ে ভারতের তিন-ভাষা নীতি নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। দুই নেতার দাবি ছিল যে, মহারাষ্ট্রের সংস্কৃতি এবং স্বার্থ সবসময় তাঁদের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের চেয়ে বড়। এসময় উদ্ধব ঠাকরে ঘোষণা করেছিলেন, আগামী পৌরসভা নির্বাচনে দুই পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক জোট হতে পারে।
রাজ ঠাকরে বর্তমানে সাফ জানিয়েছিলেন যে, তিনি শিগগিরই নিজের দল এমএনএস-এর অবস্থান পরিষ্কার করবেন এবং পৌরসভা নির্বাচনের পরই জোট বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে, উদ্ধব ঠাকরে আগে থেকেই এই সম্ভাবনার প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিশেষ করে, মুম্বইয়ের পৌরসভা নির্বাচন এবং অন্যান্য পৌর কর্পোরেশনের নির্বাচনে দুই দলের মধ্যে জোটের সম্ভাবনা বেড়ে গেছে।
মুম্বইয়ের পৌরসভা, যা শিব সেনার ঐতিহ্যগত গড়, এবং অন্যান্য পৌর নির্বাচনের তারিখ শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে, এবং এসব নির্বাচনে রাজ ঠাকরে এবং উদ্ধব ঠাকরের রাজনৈতিক জোটের বিষয়ে আরও আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
রাজ ঠাকরে এবং উদ্ধব ঠাকরের এই রাজনৈতিক বৈঠক এবং পরবর্তীতে সম্ভাব্য জোটের ঘোষণা মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে, এমনটি মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।