আগামীকাল বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে প্রধানমন্ত্রী একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন

নয়াদিল্লি, ১৭ জুলাই : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামী ১৮ই জুলাই বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসবেন। এই সফরে তিনি দুই রাজ্যে মোট ১২,২০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করবেন। এর মধ্যে বিহারে ৭,২০০ কোটি টাকার বেশি এবং পশ্চিমবঙ্গে ৫,০০০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের প্রকল্প রয়েছে। এই প্রকল্পগুলি তেল ও গ্যাস, বিদ্যুৎ, সড়ক, রেল, গ্রামীণ উন্নয়ন, মৎস্য, ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে কভার করবে।

বিহার সফরে প্রধানমন্ত্রী রেল ও সড়ক যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, মৎস্য ও গ্রামীণ উন্নয়নে একাধিক প্রকল্পের সূচনা করবেন। রেল খাতে সমস্তিপুর-বাছওয়ারা রেলপথে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালিং ব্যবস্থা চালু করা হবে এবং দরভাঙ্গা-ঠালওয়ারা ও সমস্তিপুর-রামভদ্রপুর রেলপথের দ্বৈতকরণ করা হবে, যার মূল্য ৫০৮০ কোটি টাকার বেশি। এছাড়াও, পাটলিপুত্রে বন্দে ভারত ট্রেনের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পরিকাঠামো উন্নয়নের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং ভাটনি-ছাপরা গ্রামীণ রেলপথে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালিং ও ট্র্যাকশন ব্যবস্থার উন্নতি ঘটানো হবে। সড়ক পরিকাঠামোয় আরা বাইপাস এর ৪-লেন সড়কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে, যা আরা-মোহানিয়া NH-319 এবং পাটনা-বক্সার NH-922-কে সংযুক্ত করবে। পারারিয়া থেকে মোহানিয়া পর্যন্ত ৪-লেন সড়ক এবং সরওয়ান থেকে চাকাই পর্যন্ত ২-লেন সড়কেরও উদ্বোধন করা হবে। তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে, দরভাঙ্গায় নতুন সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কস অফ ইন্ডিয়া এবং পাটনায় এসটিপিআই-এর অত্যাধুনিক ইনকিউবেশন সুবিধা উদ্বোধন করা হবে, যা আইটি/আইটিইএস/ইএসডিএম শিল্প ও স্টার্টআপগুলিকে উৎসাহিত করবে। মৎস্য ও গ্রামীণ উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনার অধীনে নতুন ফিশ হ্যাচারি, বায়োফ্লক ইউনিট, শোভাময় মাছ চাষ, সমন্বিত জলজ চাষ ইউনিট এবং মাছের খাদ্য মিল সহ একাধিক প্রকল্প উদ্বোধন করবেন। দীনদয়াল অন্ত্যোদয় যোজনা-জাতীয় গ্রামীণ জীবিকা মিশন-এর অধীনে বিহারের প্রায় ৬১,৫০০ স্ব-সহায়ক গোষ্ঠীকে ৪০০ কোটি টাকা প্রদান করা হবে। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-গ্রামীণের অধীনে ১২,০০০ সুবিধাভোগীকে গৃহপ্রবেশের চাবি হস্তান্তর এবং ৪০,০০০ সুবিধাভোগীকে ১৬০ কোটি টাকা প্রদান করা হবে। বিহারের সংযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে প্রধানমন্ত্রী চারটি নতুন অমৃত ভারত ট্রেনের সূচনা করবেন: রাজেন্দ্র নগর টার্মিনাল (পাটনা) থেকে নতুন দিল্লি, বাপুধাম মতিহারি থেকে দিল্লি (আনন্দ বিহার টার্মিনাল), দরভাঙ্গা থেকে লখনউ (গোমতী নগর) এবং মালদা টাউন থেকে লখনউ (গোমতী নগর) (ভাগলপুর হয়ে)।

পশ্চিমবঙ্গ সফরে প্রধানমন্ত্রী তেল ও গ্যাস, বিদ্যুৎ, রেল এবং সড়ক খাতে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করবেন। তেল ও গ্যাস পরিকাঠামোয় পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলায় ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড-এর সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে, যার আনুমানিক মূল্য ১,৯৫০ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রী উর্জ্জা গঙ্গা প্রকল্পের অংশ হিসেবে দুর্গাপুর-হলদিয়া প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইনের দুর্গাপুর থেকে কলকাতা অংশ (১৩২ কিমি) জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করা হবে, যার মূল্য ১,১৯০ কোটি টাকার বেশি। বিদ্যুৎ খাতে, দুর্গাপুর স্টিল থার্মাল পাওয়ার স্টেশন এবং দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশনের রঘুনাথপুর থার্মাল পাওয়ার স্টেশনে রেট্রোফিটিং পলিউশন কন্ট্রোল সিস্টেম-ফ্লু গ্যাস ডিসালফারাইজেশন এর উদ্বোধন করা হবে, যার মূল্য ১,৪৫৭ কোটি টাকার বেশি। রেল পরিকাঠামোয় পুরুলিয়া – কোটশিলা রেলপথ (৩৬ কিমি) দ্বৈতকরণের উদ্বোধন করা হবে, যার মূল্য প্রায় ৩৯০ কোটি টাকা। এটি জামশেদপুর, বোকারো এবং ধানবাদের শিল্প এলাকার সঙ্গে রাঁচি ও কলকাতার রেল যোগাযোগ উন্নত করবে। সড়ক পরিকাঠামোয় সেতু ভারতম প্রকল্পের অধীনে পশ্চিম বর্ধমানের তাপসী এবং পান্ডবেশ্বরে দুটি রোড ওভার ব্রিজ উদ্বোধন করা হবে, যার মূল্য প্রায় ৩৮০ কোটি টাকা। এটি যোগাযোগ উন্নত করবে এবং রেলওয়ে লেভেল ক্রসিং-এ দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সাহায্য করবে। প্রধানমন্ত্রী মোতিহারিতে সকাল ১১:৩০ মিনিটে একটি জনসভায় ভাষণ দেবেন এবং দুর্গাপুরে বিকাল ৩টায় আরেকটি জনসভায় ভাষণ দেবেন। এই প্রকল্পগুলি সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলির অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।