নয়াদিল্লি, ২৩ জুন: ভারতের খনি খাত গত ১১ বছরে ব্যাপক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। কেন্দ্রীয় কয়লা ও খনি মন্ত্রী শ্রী জি. কিষাণ রেড্ডি এক নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন, যে স্বচ্ছ নিলাম প্রক্রিয়া, কেন্দ্র-রাজ্য সহযোগিতা এবং দ্রুত লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রদানের মাধ্যমে খনি খাতে এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে।
সম্প্রতি, ভারতের ইতিহাসে প্রথমবার পটাশ ব্লক নিলামে তোলা হয়েছে, যার লক্ষ্য হলো কৃষিতে ব্যবহৃত সার আমদানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। খনিজ সম্পদের সঠিক ব্যবহারের জন্য সরকার বিগত এক দশকে ধারাবাহিক সংস্কার এনেছে। ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে খনি ও খনিজ (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন -এ একাধিক সংশোধন আনা হয়েছে। এর ফলে, এখন পর্যন্ত ৫০০টিরও বেশি খনিজ ব্লক নিলামে তোলা হয়েছে, যার মধ্যে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১১৯টি ব্লক নিলাম হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, সরকারের এই উদ্যোগে বেসরকারি খাত এখন গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে যুক্ত হয়েছে। ৫০ বছরের একরূপ খনি ইজারা, নবায়ন প্রক্রিয়ার বাধা অপসারণ, ক্লিয়ারেন্স স্থানান্তর সহজীকরণ এবং নতুন এক্সপ্লোরেশন লাইসেন্স প্রবর্তনের ফলে এমএসএমই ও স্টার্টআপদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
খনি খাতে পূর্বনির্ধারিত কাঠামো গড়ে তুলতে ন্যাশনাল মিনারেল এক্সপ্লোরেশন ট্রাস্ট, ন্যাশনাল জিওসায়েন্স ডেটা রিপোজিটরি, ড্রোন সার্ভে, মাইনিং টেনেমেন্ট সিস্টেম ও ফেসলেস রিটার্ন ফাইলিং চালু হয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে এবং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
সরকারের ‘ন্যাশনাল ক্রিটিক্যাল মিনারেল মিশন’-এর মাধ্যমে ভারতে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ যেমন লিথিয়াম, কোবাল্ট, নিকেল ও রেয়ার আর্থ উপাদানগুলোর পুনঃব্যবহার ও রিসাইক্লিং ভিত্তিক একটি সার্কুলার ইকোনমি গড়ে তোলা হচ্ছে। আর্জেন্টিনায় লিথিয়াম খনি অধিগ্রহণ ও বিশ্বজুড়ে কাবিল-এর কার্যক্রমের মাধ্যমে ভারতের কৌশলগত খনিজ সম্পদভাণ্ডার বিস্তৃত হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও জানান, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সহযোগিতার ফলে রাজ্যগুলি নিলাম প্রিমিয়াম ও রয়্যালটি বাবদ প্রায় ৪ লক্ষ কোটি আয় করেছে। স্টেট মাইনিং ইনডেক্স, মাইনিং মন্ত্রীদের কনক্লেভ এবং স্টেট মিনারেল এক্সপ্লোরেশন ট্রাস্টের মতো উদ্যোগ কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ককে আরও মজবুত করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশনায় গঠিত ডিস্ট্রিক্ট মিনারেল ফাউন্ডেশন ট্রাস্টগুলিও রাজ্য প্রশাসনের সক্রিয় অংশগ্রহণে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
খনি চালুর প্রতিটি ধাপে সময় হ্রাস করতে ‘মিশন মোড’-এ কাজ করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয় খনি ইজারা, অনুমোদন এবং অপারেশনালাইজেশনের প্রতিটি স্তরে শিল্প সংস্থাগুলিকে ‘হ্যান্ড-হোল্ড’ করছে। একই সঙ্গে গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নের জন্য ‘সেন্টারস অফ এক্সেলেন্স’ গঠনের কাজ চলছে। খনির ইতিহাসে প্রথমবার স্টার্টআপদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে, যাতে তারা খনিজ অনুসন্ধান ও প্রক্রিয়াকরণে গবেষণায় এগিয়ে আসতে পারে।
মন্ত্রী জি. কিষাণ রেড্ডি জানান, ভারত যখন বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি থেকে তৃতীয় স্থানে এগোতে প্রস্তুত, তখন একটি আধুনিক, টেকসই এবং উদ্ভাবনী খনি খাত দেশের ভবিষ্যৎ শিল্পকে শক্তি জোগাবে এবং ভারতকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মানচিত্রে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করবে।

