গোয়া, ১৮ জুন: বেঙ্গালুরুর এক ২২ বছর বয়সি যুবক প্রেমিকার সঙ্গে বিয়ে করতে গোয়ায় গিয়ে শেষমেশ প্রেমিকাকেই হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তের নাম সঞ্জয় কেভিন এম। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, গোয়ার মোল্লেম অরণ্য সংরক্ষণ অঞ্চলে প্রেমিকা রোশনি মোসেস এম-এর দেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যায় সে।
দুজনেই উত্তর বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা। রোশনি একটি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন, আর সঞ্জয় ছিলেন বেকার। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, “বিয়ের উদ্দেশ্যেই দুজন গোয়ায় গিয়েছিল। তবে অজানা কারণে দুজনের মধ্যে বিবাদ হয়। সেই বিবাদের জেরে দু’দিন আগে সঞ্জয় প্রেমিকা রোশনিকে গলা কেটে খুন করে জঙ্গলে ফেলে দেয়।”
সোমবার সকালে স্থানীয় এক কৃষক জঙ্গলে বিবেম (অঙ্কুরিত কাঁজু) খুঁজতে গিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দূরে রাস্তার ধারে পড়ে থাকা রোশনির রক্তাক্ত দেহ দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, রোশনির দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, গলায় গভীর ক্ষত স্পষ্ট, যা ধারালো অস্ত্র দিয়ে করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
দক্ষিণ গোয়ার পুলিশ সুপার টিকম সিং বর্মা বলেন, “তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে, ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকেই এই খুন। সঞ্জয় সন্দেহ করত, রোশনি তার সঙ্গে প্রতারণা করছে।” অন্য এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, তারা বেঙ্গালুরু থেকে গোয়া আসে কর্ণাটক রাজ্য পরিবহণ নিগমের কদম্ব বাসে। যদিও তারা অজানা কারণে মাঝপথেই একটি নির্জন জায়গায় নেমে যায়। পরে ওই এলাকাতেই রোশনির দেহ পাওয়া যায়।
রোশনির ব্যাগ থেকে উদ্ধার হওয়া বাস টিকিট থেকেই পুলিশের প্রথম সূত্র মেলে। টিকিটটি সঞ্জয় নিজেই বুক করেছিলেন। মঙ্গলবার কর্ণাটকের হুবলিতে সঞ্জয়কে গ্রেফতার করে গোয়ায় আনা হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

