কলকাতা, ১৬ জুন : সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বর্ষাকালীন অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য চলাকালীন বিজেপি বিধায়কদের তীব্র প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে বিধানসভা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রাম কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক মনোজ কুমার ওরাঁও-কে বহিষ্কার করেন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।
তবে ঠিক কতদিনের জন্য বিধানসভা থেকে ওরাঁওকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিকেলে অধ্যক্ষ বহিষ্কারের ঘোষণা করতেই বিজেপি বিধায়করা প্রথমে বিধানসভা কক্ষে প্রতিবাদ জানান এবং পরে ওয়াকআউট করে আসেন। এরপর তাঁরা বিধানসভা চত্বরে পোস্টার হাতে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের সময়, যখন তিনি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অর্থ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এমজিএনরেগা প্রকল্পে অর্থ দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে কেন্দ্র। বিভিন্ন প্রকল্পে রাজ্যের প্রাপ্য অর্থ অন্য রাজ্যে পাঠানো হচ্ছে। তদন্তকারী দল এলে রাজ্য সরকার সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে, তবুও অর্থ বরাদ্দ করা হচ্ছে না।
এই বক্তব্যের সময়, বিজেপির মুখ্য সচেতক শঙ্কর ঘোষের নেতৃত্বে বিজেপি বিধায়করা স্লোগান দিতে শুরু করেন এবং প্রতিবাদে মেতে ওঠেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই অধ্যক্ষ মনোজ ওরাঁও-কে বিধানসভা থেকে বহিষ্কার ঘোষণা করেন। প্রতিবাদের মাঝেই মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, অন্যান্য রাজ্যে বাংলা ভাষাভাষীদের ‘বাংলাদেশি’ বলে অপমান ও হয়রানি করা হয়।
দিনের শুরুতেই বিজেপি বিধায়করা রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রের দুরবস্থা নিয়ে আলোচনার দাবি জানান। কিন্তু অধ্যক্ষ জানান, যেহেতু বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন তাই বিধানসভায় এ নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব নয়। পাল্টা যুক্তিতে বিজেপি বিধায়করা বলেন, এর আগেও বিচারাধীন বিষয় নিয়ে বিধানসভায় আলোচনা হয়েছে। এদিনের ঘটনায় বিধানসভায় রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। বিরোধী ও শাসক শিবিরের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা।

