নকশা কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় ব্যাচের প্রশিক্ষণ ১৬ জুন থেকে শুরু, দেশের চারটি জাতীয় উৎকর্ষ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ

নয়াদিল্লি, ১৫ জুন ২০২৫: ভারতের গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রকের অধীনস্থ ভূমি সম্পদ বিভাগ আগামী ১৬ জুন ২০২৫ থেকে নকশা কর্মসূচির অধীনে দ্বিতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় ব্যাচের প্রশিক্ষণ শুরু করতে চলেছে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি দেশের চারটি জাতীয় উৎকর্ষ কেন্দ্রে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে, প্রথম পর্যায় ও দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রথম ব্যাচে যথাক্রমে হায়দরাবাদের এনআইজিএসটি-এ ১৬০ জন মাস্টার ট্রেনার (মে ২০২৫-এ) এবং দেশের পাঁচটি উৎকর্ষ কেন্দ্রে ১৫১ জন শহর স্থানীয় সংস্থা–এর কর্মকর্তাকে (২–৭ জুন ২০২৫) সাফল্যের সঙ্গে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

এই দ্বিতীয় ব্যাচের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ভার্চুয়াল উদ্বোধন করবেন ভূমি সম্পদ বিভাগের সচিব শ্রী মনোজ যোশী, ১৬ জুন সকাল ১০টায়। এই ব্যাচে দেশের প্রায় ৭৪টি শহর স্থানীয় সংস্থা থেকে নির্বাচিত ১২৮ জন জেলা ও ইউএলবি-স্তরের কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করবেন। তারা এক সপ্তাহব্যাপী হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আধুনিক ভূ-স্থানিক প্রযুক্তির ব্যবহার শিখবেন, যার মাধ্যমে শহরাঞ্চলের সম্পত্তি জরিপ আরও নির্ভুল ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

এই প্রশিক্ষণ ভারতের চারটি জাতীয় উৎকর্ষ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে: যশবন্ত রাও চাভান অ্যাকাডেমি অফ ডেভেলপমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, পুনে; উত্তর-পূর্ব অঞ্চল উৎকর্ষ কেন্দ্র, গুয়াহাটি; মহাত্মা গান্ধী স্টেট ইনস্টিটিউট অফ পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, চণ্ডীগড়; এবং প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, মাইসুরু। প্রশিক্ষণ মডিউলে থাকছে কর্মসূচির কাঠামো, জিএনএসএস ও ইটিএস প্রযুক্তিনির্ভর জরিপ, ওয়েব-জিআইএস ব্যবহারের কৌশল, জমি প্লটের ম্যাপিং এবং জরিপ সংক্রান্ত প্রশাসনিক ও আইনগত দিকগুলো।

নকশা কর্মসূচির মাধ্যমে শহুরে ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং স্বচ্ছ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ২০৩১ সালের মধ্যে ভারতের শহুরে জনসংখ্যা ৬০০ মিলিয়ন ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার প্রেক্ষিতে, যাচাইযোগ্য ও সহজলভ্য ভূমি নথির প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে নকশা কর্মসূচি ভূমি সম্পদ বিভাগ, সার্ভে অফ ইন্ডিয়া, এনআইসিএসআই, এমপিএসইডিসি এবং পাঁচটি উৎকর্ষ কেন্দ্রের সহযোগিতায় একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। বর্তমানে এই কর্মসূচি ২৭টি রাজ্য ও ৩টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ১৫৭টি শহর স্থানীয় সংস্থায় চালু রয়েছে। এই প্রশিক্ষণ উদ্যোগ দেশের শহুরে ভূমি জরিপ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।