এয়ার ইন্ডিয়া দুর্ঘটনায় মৃতদের শনাক্তে গুজরাটে রাতদিন এক করে কাজ করছেন ৩৬ জন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ

গান্ধীনগর, ১৩ জুন : আহমেদাবাদে ভয়াবহ এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট এআই-১৭১ দুর্ঘটনার পর মৃতদের ডিএনএ পরীক্ষা করে শনাক্ত করার কাজে নেমেছেন গুজরাটের ৩৬ জন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ। দুর্ঘটনায় নিহত ২৪১ জন যাত্রীর অধিকাংশের দেহ এতটাই পুড়ে গেছে যে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

গুজরাটের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্ষ সাংঘভি শনিবার সাংবাদিকদের জানান, গান্ধীনগরের ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে(এফএসএল) একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়েছিল। তিনি বলেন, “এফএসএল-এ সিনিয়র আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে গুজরাটের ফরেনসিক টিমের নিরলস পরিশ্রমের প্রশংসা করা হয়েছে। গত দুই রাত ধরে তাঁরা একটানা কাজ করছেন, যাতে দ্রুত ডিএনএ মিলিয়ে মৃতদের সঠিকভাবে শনাক্ত করে তাঁদের পরিবারের হাতে দেহ তুলে দেওয়া যায়।” সাথে তিনি যোগ করেন, গুজরাট সরকারের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারও বড় মাপের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের দল পাঠিয়েছে এই কাজকে সমর্থন করার জন্য।

ঘটনার দিন, ১২ জুন দুপুর ১টা ৩৮ মিনিটে আহমেদাবাদের সরদার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের গ্যাটউইকের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারটি। মাত্র ২ মিনিটের মধ্যেই, ১টা ৪০ মিনিট নাগাদ, বিমানটি মেঘানি নগর এলাকার একটি মেডিকেল কলেজ হোস্টেলের বিল্ডিং ‘অতুল্যম’-এর উপর ভেঙে পড়ে। বিমানে মোট ২৪২ জন ছিলেন — ২৩০ জন যাত্রী ও ১২ জন কর্মী। এদের মধ্যে ২৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বিমান দুর্ঘটনার প্রভাবে মাটিতে থাকা অনেক সাধারণ মানুষও মারা গিয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করে মৃতদের আত্মীয়দের দেওয়া নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে দেহ শনাক্ত করছেন। এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যাতে মরদেহগুলি সম্মানজনকভাবে তাঁদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া যায়।

এদিকে, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানির ছেলে ঋষভ রূপানি শনিবার আমেরিকা থেকে গান্ধীনগরে পৌঁছেছেন। তাঁর স্ত্রী অঞ্জলি রূপানি লন্ডন থেকে বিশেষ চার্টার্ড বিমানে শুক্রবার ফিরেছেন। বিজেপির স্বাস্থ্য মন্ত্রী ঋষিকেশ প্যাটেল, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পরশোত্তম রূপালা সহ বহু শীর্ষ নেতা ও আত্মীয়স্বজন গান্ধীনগরের পারিবারিক বাসভবনে এসে শোকজ্ঞাপন করছেন। পার্টি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রয়াত নেতার শেষকৃত্য তাঁর জন্মস্থান রাজকোটে সম্পন্ন হবে। পুরো রাজ্যজুড়ে এই দুর্ঘটনার শোক ছড়িয়ে পড়েছে। ডিএনএ শনাক্তকরণের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃতদের আত্মীয়দের জন্য অপেক্ষার পালা অব্যাহত থাকবে।