ডিজিটিতে গ্রিন স্কিল ও ইভি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সূচনা, শেল ইন্ডিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের পথ প্রশস্ত

নতুন দিল্লি, ১২ জুন : দ্য ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ট্রেনিং , যেটি ভারতের স্কিল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড এনট্রেপ্রেনারশিপ মন্ত্রকের অধীনস্থ, শেল ইন্ডিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে চালু হয়েছে একটি বিশেষ গ্রিন স্কিল এবং ইলেকট্রিক ভেহিকেল -কেন্দ্রিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, যার লক্ষ্য আগামী প্রজন্মকে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং ই-মবিলিটি খাতে ভবিষ্যত-প্রস্তুত করে তোলা।

এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে এডুনেট ফাউন্ডেশন, শেল ইন্ডিয়ার প্রশিক্ষণ অংশীদার। দিল্লি-এনসিআর, গুজরাট, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু এবং কর্ণাটক—এই পাঁচটি রাজ্যের বাছাই করা ন্যাশনাল স্কিল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট -এ চালু হবে ইভি স্কিল ল্যাব ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। এর মাধ্যমে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী ও প্রশিক্ষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের সুযোগ মিলবে।

এই উদ্যোগের প্রথম ধাপে থাকছে তিন ধরনের প্রশিক্ষণ মডিউল—৪টি এনএসটিআই-তে ২৪০ ঘণ্টার অ্যাডভান্সড ইভি টেকনিশিয়ান কোর্স, ১২টি ITI-তে ৯০ ঘণ্টার জব-ওরিয়েন্টেড কোর্স (শেল-এর সহযোগিতায় গড়ে ওঠা ইভি ল্যাব সহ), এবং অতিরিক্ত কিছু আইটিআই -তে ৫০ ঘণ্টার প্রাথমিক গ্রিন স্কিল মডিউল। এই কোর্সগুলির পাঠক্রম যৌথভাবে তৈরি করেছে শেল ইন্ডিয়া, ডিজিটি এবং এডুনেট ফাউন্ডেশন। পাঠক্রমে থাকছে ইভি সিস্টেম, ডায়াগনস্টিকস, ব্যাটারি প্রযুক্তি, ডিজিটাল টুলস ও সুরক্ষা পদ্ধতি।

এই কর্মসূচির একটি বিশেষ দিক হলো নির্বাচিত এনএসটিআই ও আইটিআই-তে অত্যাধুনিক ইভি স্কিল ল্যাব স্থাপন, যেখানে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ ও ইন্ডাস্ট্রি স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী বিশেষজ্ঞদের নেতৃত্বে শেখার সুযোগ পাবেন। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের জন্য থাকছে শেল ও ডিজিটি-এর যৌথ সার্টিফিকেশন, প্লেসমেন্ট সাপোর্ট, এবং ট্রেইনারদের আপস্কিলিং, যা ভবিষ্যতের গ্রিন জব বাজারে তাদের প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।

এই উদ্যোগ সম্পর্কে কেন্দ্রীয় স্বশাসিত রাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী জয়ন্ত চৌধুরী বলেন, “শেল ইন্ডিয়ার সঙ্গে আমাদের এই অংশীদারিত্ব সরকার যে টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ-সচেতন কর্মসংস্থানের দিকে এগিয়ে চলেছে, তারই প্রতিফলন। গ্রিন এনার্জি ও ই-মবিলিটি কেবলমাত্র পরিবেশগত দায়বদ্ধতা নয়, বরং ভারতের জন্য একটি প্রজন্মগত সুযোগ, যাতে আমরা উদ্ভাবন ও দক্ষতার মাধ্যমে নেতৃত্ব দিতে পারি।”

ডিজিটি-এর মহানির্দেশক, শ্রীমতি তৃষালজিৎ সেঠি বলেন, “শেল ইন্ডিয়ার সঙ্গে এই সহযোগিতা আমাদের আইটিআই ও এনএসটিআই-তে বাস্তবভিত্তিক ও শিল্প-সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর ফলে শিক্ষার্থীরা বাস্তব চাহিদা অনুযায়ী ইভি প্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে উঠবে।”

শেল ইন্ডিয়ার চেয়ারপার্সন এবং এশিয়া-প্যাসিফিকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট (লুব্রিকেন্টস), মানসী মদন ত্রিপাঠী জানান, “স্থানীয় যুবসমাজকে ভবিষ্যত-প্রস্তুত দক্ষতা দিয়ে আমরা কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে চাই। গ্রিন এনার্জিতে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণরা ভারতের নেট-জিরো লক্ষ্যের বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।”

সরকারের ‘ফেম’ স্কিম এবং বিভিন্ন রাজ্য সরকার যেমন দিল্লি, মহারাষ্ট্র ও তামিলনাড়ুর ইভি নীতি ইতিমধ্যেই ই-মবিলিটির গতি বাড়িয়েছে। এর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ভাবে এই ডিজিটি– শেল ইন্ডিয়া উদ্যোগ একটি পরিপূর্ণ প্রশিক্ষণ কাঠামো, বাস্তবভিত্তিক ল্যাব সুবিধা এবং শিল্প সংযোগের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের দক্ষ ও কর্মক্ষম করে তুলবে। এটি শুধুমাত্র কর্মসংস্থান নয়, বরং ভারতীয় যুবসমাজকে টেকসই, উদ্ভাবনী ও পরিবেশ-সমর্থ ভবিষ্যতের দিশারী করে তুলবে।