রাফা, ১ জুন: গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফায় একটি মার্কিন অর্থায়নে পরিচালিত ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের কাছে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৩০ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১১৫ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। এই ঘটনাকে হামাস “ক্ষুধার্ত অসামরিক মানুষের উপর পরিচালিত গণহত্যা” বলে অভিহিত করেছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে সকালবেলা, যখন হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নাগরিক ত্রাণ সংগ্রহের জন্য উক্ত কেন্দ্রের সামনে জড়ো হয়েছিলেন। স্থানীয় এক ফিলিস্তিনি সাংবাদিক জানিয়েছেন, ইসরায়েলি ট্যাংক থেকে ভিড়ের দিকে সরাসরি গুলি চালানো হয়।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা এতটাই চরমে পৌঁছেছে যে, নিহত ও আহতদের দেহ গাধার গাড়িতে করে সরিয়ে নেওয়া হয়, যা গাজার মানবিক সংকটের গভীরতা স্পষ্ট করে।
আহতদের মধ্যে অনেককে নাসের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়ায় হামাস একে “মানবিক সহায়তার নামে মৃত্যুকূপ” আখ্যা দিয়ে জানায়, ইসরায়েল রাফায় সাধারণ মানুষের উপর আরেকটি ‘গণহত্যা’ চালিয়েছে।
এই ঘটনাটি এমন এক সময় ঘটল, যখন হামাস সম্প্রতি মার্কিন সমর্থিত যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। হামাসের এক শীর্ষ কর্মকর্তা এ প্রতিক্রিয়াকে “ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল” বলে বর্ণনা করলেও, মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ একে “সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
হামাস এক স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার দাবি করেছে বলে জানা গেছে।
এর আগে শুক্রবার, ইসরায়েল হামাসকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল— তারা যেন প্রস্তাব মেনে গাজায় আটক সকল জিম্মিকে মুক্তি দেয়, নচেৎ “সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হবে”।
এই ঘটনার ফলে গাজা উপত্যকায় চলমান উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে, এবং আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের সঞ্চার হয়েছে।
2025-06-01

