আগরতলা, ৩০ মে: টানা দুইদিন ত্রিপুরায় ভারী বৃষ্টিপাতে জনজীবনে ভীষণ ছন্দপতন ঘটেছে। ফলে, হাওড়া নদীর জল ক্রমশই বাড়ছে। আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন এলাকার মানুষজন। আবহাওয়া দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী সর্বাধিক বৃষ্টিপাত সিপাহীজলা জেলার বিশ্রামগঞ্জে ২১১ এমএম এবং সর্বনিম্ন গন্ডাছড়ে ৩৩ এমএম রেকর্ড করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গতকালের পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূল সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উপর অবস্থিত অতি-গভীর নিম্নচাপটি ক্রমশ: উত্তর-উত্তর- পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে আজ ৩০ মে সকাল ০৮:৩০ টায় উত্তর বাংলাদেশের উপর অবস্থান করছিল। এটি আরো উত্তর-উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে, পরবর্তী ১২ ঘন্টার মধ্যে একটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপ অঞ্চলে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা। এর প্রভাবে, আগামী দুই দিনে ত্রিপুরায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি, দু-এক জায়গায় অত্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
আজ দিনভর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। আজ দিনের সবোর্চ্চ ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ম ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। আজ সকালে সর্বনিম্ম তাপমাত্রা সব জেলায় স্বাভাবিকের কাছাকাছি ছিল।
মৌসম বিভাগ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত আগরতলায় ১২১.৬ এমএম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার বোধজংনগরে ১০৭ এমএম, ডিএম অফিসে ৮২ এমএম, এডি নগর ১৩৬ এমএম, জিরানিয়ায় ১৫৮ এমএম, সচিবালয়ে ৭৬.৫ এমএম, হাওরায় ১১৫ এমএম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
তেমনি, সিপাহীজলা জেলার সোনামুড়ায় ১৬৭ এমএম, বিশালগড়ে ৮৮ এমএম, বিশ্রামগঞ্জে ২১১ এমএম, গজারিয়া ১০৯ এমএম এবং সোনামুড়ার মোহনবাগে ২০৪ এমএম, খোয়াই জেলায় ১২২ এমএম এবং তেলিয়ামুড়ায় ১১২ এমএম। তেমনি, গোমতী জেলায় অমরপুরে ৯২.২ এমএম এবং করবুক ৭১.৬ এমএম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
তাছাড়া, দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার বিলোনিয়া ৮৮ এমএম, সাব্রুমে ১০৯.৪ এমএম, বাগাফা ৮৬.৫ এমএম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তেমনি, উত্তর ত্রিপুরা জেলার পানিসাগরে ৬৭.৮ এমএম, কাঞ্চনপুরে ৪৬.৪ এমএম, কদমতলায় ৬৬.৫ এমএম এবং নতুনবাজারে ১৩৮ এমএম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
তেমনি ঊনকোটি জেলায় কুমারঘাটে ৭৮.২ এমএম এবং কৈলাসহরে ৮৪.৫ এমএম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ধলাই জেলায় গন্ডাছড়ায় ৩৩ এমএম, ছাওমনুতে ৪৪.৭ এমএম, কমলপুরে ৭০.৬ এমএম এবং মনুঘাটে ৬৭.৪ এমএম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

