সুপ্রিম কোর্ট গরমের সময়সীমা ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত গাইডলাইন কার্যকর করার বিষয়ে কেন্দ্রের জবাব তলব করল

নয়াদিল্লি, ২২ মে : বিগত বছরে তাপপ্রবাহে ৭০০-র বেশি মৃত্যুর প্রেক্ষিতে, তাপপ্রবাহ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা কঠোরভাবে কার্যকর করার দাবিতে দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারের জবাব তলব করেছে।

প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই ও বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহ-এর ডিভিশন বেঞ্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, জাতীয় বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছে।

এই জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন পরিবেশ কর্মী বিক্রান্ত টোঙাড। মামলায় তিনি আবহাওয়া পূর্বাভাস, তাপপ্রবাহ সতর্কতা এবং ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন চালুর দাবি জানিয়েছেন, যাতে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

টোঙাডের আইনজীবী আকাশ বসিষ্ঠ আদালতে বলেন, “গত বছর দেশে তাপপ্রবাহ ও হিট স্ট্রেসের কারণে ৭০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আইএমডি -এর রিপোর্ট অনুযায়ী, আগে তাপপ্রবাহ শুধুমাত্র উত্তর-পশ্চিম ও মধ্য ভারতে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন তা পূর্ব উপকূল, উত্তর-পূর্ব, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-মধ্য ভারতেও ছড়িয়ে পড়েছে।”

তিনি জানান, ২০১৯ সালে জাতীয় বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ যে জাতীয় গাইডলাইন ফর প্রিপারেশন অব অ্যাকশন প্ল্যান – প্রিভেনশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অফ হিটওয়েভ প্রকাশ করেছে, তা এখনও বহু রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল বাস্তবায়ন করেনি।

মামলায় কেন্দ্র সরকারের উপর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৫-এর ৩৫ নম্বর ধারা এবং পরিবেশ (সুরক্ষা) আইন, ১৯৮৬-এর ৩ নম্বর ধারার অধীনে আইনানুগ দায়িত্ব পালন না করার অভিযোগও আনা হয়েছে।

পাশাপাশি, মামলায় তাপপ্রবাহের শিকারদের ক্ষতিপূরণ, চরম গরমের সময় গরিব ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগণের জন্য ন্যূনতম মজুরি বা আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এপ্রিল ২০২৩-এ ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ, ভারত সরকারের ভূবিজ্ঞান মন্ত্রক এবং ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিকাল মেটিওরোলজি প্রকাশিত একটি মনোগ্রাফ অনুযায়ী, ২১শ শতকে ভারতের তাপপ্রবাহের ঝুঁকি দশগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের ৭০ শতাংশেরও বেশি অঞ্চলে তাপপ্রবাহের প্রভাব পড়বে।

এই গবেষণা সতর্ক করেছে যে ভবিষ্যতের জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভারতে বিশেষত নিম্ন অক্ষাংশের দেশগুলিতে তাপজনিত মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

সুপ্রিম কোর্টের এই হস্তক্ষেপে দেশের জলবায়ু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ভবিষ্যৎ কার্যকর বাস্তবায়নের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।