শ্রীনগর, মে ১৫: পহেলগামের ভয়াবহ জঙ্গি হামলার জবাবে ভারতীয় সেনার ‘অপারেশন সিন্ধুর’-এর পর, সীমান্তে উত্তেজনা তুঙ্গে। পাকিস্তান এই অভিযানে ভয় পেয়ে প্রতিক্রিয়ায় একাধিক মিসাইল নিক্ষেপ করলেও, অধিকাংশই ভারতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ধ্বংস হয়ে যায়। কিছু বোমা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে জম্মু-কাশ্মীরের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে পড়ে থাকলেও, বিস্ফোরিত হয়নি। এইসব অবিস্ফোরিত বোমার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজৌরি, পুঞ্চ এবং সাম্বা জেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে ভারতীয় সেনা এবং পুলিশ যৌথভাবে বোম স্কোয়াড নামিয়ে দিয়েছে। এই দস্তা গ্রামের পর গ্রাম ঘুরে অবিস্ফোরিত গোলা-বারুদের সন্ধান করছে এবং সেগুলি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করছে।
চিফ সেক্রেটারি অতুল দুল্লু জানান, “আমরা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের জন্য সমস্ত রকম সহযোগিতা করা হবে।” তিনি আরও জানান, “যেসব মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।”
৭ মে থেকে ১০ মে পর্যন্ত সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানের দিক থেকে প্রবল গোলাবর্ষণ ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ২৮ জন ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন ৫০ জনেরও বেশি। প্রাথমিকভাবে প্রায় দুই লক্ষ সীমান্তবর্তী মানুষ তাঁদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। যদিও গত কয়েক দিনে কিছু মানুষ ফিরে এসেছেন নিজ গ্রামে, তবুও অনেকে এখনো সরকার স্থাপিত ত্রাণ শিবিরে অবস্থান করছেন। তারা নিরাপত্তা বাহিনীর সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছেন।
ভারতীয় সেনার অপারেশন সিন্ধুরের জেরে পাকিস্তান চাপে পড়ে সীমান্তে সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করে গোলাবর্ষণ শুরু করে। এই গোলাবর্ষণে ভারতীয় রিহাইশি এলাকাগুলিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সেনা ও পুলিশ মিলে একাধিক অবিস্ফোরিত বোমা ধ্বংস করেছে, যা এখনো এলওসি ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত লাগোয়া অঞ্চলগুলিতে ছড়িয়ে রয়েছে।
জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করা হয়েছে, কেউ যেন কোনো অজানা বা সন্দেহজনক বস্তুকে স্পর্শ না করেন। এর পরিবর্তে নিকটবর্তী থানা অথবা নিরাপত্তা সংস্থাকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সেনাবাহিনী ইতিমধ্যে স্থানীয় স্কুল, খেলার মাঠ ও জনসমাগমস্থল পরীক্ষা করে সন্দেহজনক বস্তু চিহ্নিত করছে।
অপারেশন সিন্ধুর ভারতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এক প্রমাণ, যেখানে সন্ত্রাস ও হামলার জবাব সাহসিকতায় দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে জম্মু-কাশ্মীরের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে অবিস্ফোরিত গোলাবর্ষণের জেরে তৈরি হওয়া বিপদের মোকাবিলায় বোম স্কোয়াড কাজ করে চলেছে, যাতে কোনো বড় বিপর্যয় না ঘটে এবং মানুষ নিরাপদে ফিরতে পারে তাঁদের নিজস্ব জীবনে।

