নয়াদিল্লি, ১০ মে : পাকিস্তানের টানা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিক্রিয়ায় শুক্রবার রাতেই ভারত পাকিস্তানের অন্তত আটটি সামরিক স্থাপনায় নিখুঁত হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। ‘অপারেশন সিন্দুর’ সংক্রান্ত এক বিশেষ সাংবাদিক সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রির নেতৃত্বাধীন একটি বিশেষ দল এই তথ্য তুলে ধরেছে।
পররাষ্ট্র সচিবের পাশে ছিলেন সেনাবাহিনীর কর্নেল সোফিয়া কুরেশি ও বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিং। তাঁরা জানান, ছয়টি পাকিস্তানি সামরিক ঘাঁটি, একটি রাডার সাইট এবং একটি এভিয়েশন বেস লক্ষ্য করে নিখুঁত বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিং জানান, “রফিকি, মুরিদ, চকলালা, রহিম ইয়ার খান, সুক্কুর ও চুনিয়ান — এই ছয়টি সামরিক ঘাঁটিকে যুদ্ধবিমান ও এয়ার-লঞ্চড প্রিসিশন গোলাবারুদের মাধ্যমে আঘাত করা হয়েছে। পাশাপাশি, পাসরুরে একটি রাডার সাইট এবং সিয়ালকোটে একটি বিমানঘাঁটিও লক্ষ্যবস্তু ছিল। এই অভিযানে আমরা ন্যূনতম বেসামরিক ক্ষতি নিশ্চিত করেছি।”
তিনি বলেন, “গতরাতে পাকিস্তান উদমপুর, পাঠানকোট এবং বঠিন্ডা-সহ একাধিক ভারতীয় বিমানঘাঁটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। তারই প্রতিক্রিয়ায় ভারত টেকনিক্যাল ইনস্টলেশন, কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার, রাডার সাইট এবং অস্ত্রভাণ্ডারকে নিশানা করে আঘাত হানে।”
পাকিস্তানের মিথ্যা দাবির জবাবে ভারতীয় হামলার সময় ও অবস্থান সংবলিত স্যাটেলাইট চিত্রও সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন ব্যোমিকা সিং। তাঁরা জানিয়েছেন, পাকিস্তান বারবার সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয়দাতা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে এবং তারা ইচ্ছাকৃতভাবে পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সীমান্তবর্তী এলাকায় এগোতে দেখা যাচ্ছে, যা তাদের আগ্রাসী মনোভাবের প্রমাণ। “ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। সব রকম শত্রু তৎপরতা উপযুক্তভাবে প্রতিহত ও পাল্টা আঘাতের মাধ্যমে জবাব দেওয়া হয়েছে,” বলেন উইং কমান্ডার সিং।

