আগরতলা, ৭মে: শ্রম কোড বাতিল, রেগার মজুরি বৃদ্ধি সহ একাধিক দাবিতে আগামী ২০ মে ভারতজুড়ে সাধারন ধর্মঘট পালনের ঘোষনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন গুলি সহ সর্বভারতীয় ফেডারেশন ও বিভিন্ন সংগঠনসমূহ। এই ধর্মঘটের সমর্থনে আগামী ১২ মে ত্রিপুরায়ও আগরতলা শহরে প্রতিবাদী মিছিল এবং পথ সভার আয়োজন করবে সংযুক্ত কিষান মোর্চা রাজ্য কমিটি।
এদিন পবিত্র কর বলেন, দেশ এখন গভীর সংকটে। কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার ভারতবর্ষের সবচেয়ে ধনী গুটিকয়েক পরিবারে স্বার্থে দেশের সমস্ত অংশের শ্রমিক-কৃষক- নারী-ছাত্র যুব সহ সকল অংশের জনগনের উপর আক্রমন নামিয়ে এনেছে। দেশের সমস্ত সরকারী সম্পত্তি একের পর এক ধনীদের হাতে তুলে দিচ্ছে। দেশের সবচেয়ে ধনী ৫শতাংশের কাছে দেশের ৭০ শতাংশ সম্পদ। উল্টোদিকে দেশের ৫০ শতাংশ জনগনের কাছে দেশের মোট সম্পদের মাত্র ৩ শতাংশ। গত এক দশকে দারিদ্র্যের হার ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক গবেষনায় প্রকাশিত হয়েছিল ৯০ শতাংশ ভারতীয় পরিবার আন্তর্জাতিক দারিদ্রায় মানদণ্ড অনুযায়ী, গরিব। এই সরকার তার তৃতীয় মেয়াদে শ্রম সংহিতা (লেবার কোড) কার্যকর করতে চুড়ান্ত আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে, যা প্রকৃতপক্ষে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার কড়ে নিয়ে কার্যত তাদের দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করার ছক। এই কোড কার্যকর হলে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি, সামাজিক নিরাপত্তা, দৈনিক কাজের ঘন্টা, সংগঠনের অধিকার, আন্দোলন, ধর্মঘট এবং যে কোনো ধরনের প্রতিবাদী কর্মসূচীর অধিকার কেড়ে নেওয়া হবে।
এদিন তিনি আরও বলেন, পাশাপাশি যেকোনো সংগঠিত আন্দোলনের বিরুদ্ধে কঠোর দমনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটি মূলত শ্রমিকদের উপর কর্পোরেট ও মালিক পক্ষের পূর্ণ নিয়ন প্রতিষ্ঠার একটি নীলনকশা। দেশজুড়ে কাজের বাজার সংকুচিত হচ্ছে। প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও নরেন্দ্র মোদির সরকার কৃষকদের ফসলের ন্যায্য মূল্য নির্ধারন করছে না। কৃষিকাজে সরকারী সহযোগিতার ক্ষেত্র ক্রমশই সংকুচিত হচ্ছে। সার, বীজ, কীটনাশক সহ কৃষির জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই বাজারের হাতে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্য সাবান মানুষের নাগালের বাইরে, শিক্ষা ক্ষেত্রে বেসরকারীকরনের মাত্রা ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে দেশ জুড়ে আওয়াজ ওঠেছে, শ্রমিক বিরোধী, মালিকের স্বার্থবাহী শ্রম কোড বাতিল করা, অবিলম্বে কৃষকের ফসলের জন্য কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী সমস্ত ধরনের ফসলের জন্য ন্যূনতম সহায়ক মূল্য কার্য্যকর করা, নতুন পেনশন স্কীদের পরিবার্তে চাই পুরানো পেনশনের সুবিধা, বিদ্যুতের বেসরকারীকরন বন্ধ করা, দেশে ন্যূনতম মজুরী চাই ২৬০০০ টাকা, সামাজিক ভাতা বাড়াতে হবে এবং সঠিক হারে রেগার মজুরী, গ্রাম ছাড়িয়ে শহরেও রেগার কাজকে প্রসারিত করা হোক।
তাঁর কথায়, শ্রমজীবী জনগনের ঐক্য, ধর্ম, জাতি, সম্পদায়, ভাষা এবং সংস্কৃতির বৈচিত্রোর উর্ধ্বে উঠে আসন্ন সংগ্রামে তাদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার ও দাবিসমূহ আদায়ের জন্য অতান্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া, ‘এক দেশ এক নির্বাচন’ নীতিও জনগনের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে সরানোর জন্য। চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে যদিও সম্পূর্ণ বিরোধী পক্ষ এর বিরোধিতা করছে। শ্রম কোড কার্যকর হবার আগেই তথাকথিত ‘শ্রম সমাধান’ এবং ‘শ্রম সুবিধা’ পোর্টালের মাধ্যমে অভিযোগভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের পরিদর্শন পদ্ধতি কার্যত বাতিল করা হয়েছে, যা মালিকপক্ষকে শ্রম আইন লঙ্ঘনের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান করেছে।

