কল্যাণপুর, ১৬ এপ্রিল: নববর্ষে উৎসবের বদলে এক অভূতপূর্ব দুর্ভোগের মুখে পড়লো গোটা কল্যাণপুর। মঙ্গলবার বিকেল চারটে থেকে টানা ১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় কাটাতে বাধ্য হল এই মিনি শহর। নববর্ষের দিনে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের জীবন কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দেন বহু বাসিন্দা। জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেল চারটের পর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয় কল্যাণপুর। তা ফের আসে বুধবার সকাল দশটা নাগাদ, কিন্তু তা-ও সাময়িক। দুপুর বারোটার মধ্যেই ফের বিদ্যুৎ চলে যায়।
কল্যাণপুর বিদ্যুৎ নিগমের সিনিয়র ম্যানেজার নন্দন দেবনাথ জানিয়েছেন, ঝড় ও বৃষ্টির কারণে ধলাবিল সাবস্টেশন থেকে আসা ৩৩ কেভির লাইনের উপর প্রচুর গাছ ও বাঁশ পড়ে গিয়ে লাইন ফল্ট হয়। গাছ সরাতে সারারাত লেগে যায় লাইন কর্মীদের।
এই বিদ্যুৎ লাইন তেলিয়ামুড়ার গামাইবাড়ি এবং খোয়াইয়ের ধলাবিল সাবস্টেশন থেকে কল্যাণপুরে আসে। অথচ গত ১৪ মার্চ থেকে গামাইবাড়ির মেইন লাইন বিকল হয়ে আছে। সেখানে ৬.৩ এমভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ট্রান্সফরমার সারাইয়ের জন্য লাইনটি বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন গামাইবাড়ির সিনিয়র ম্যানেজার উত্তম দেববর্মা।
প্রশ্ন উঠছে, এই ট্রান্সফরমার সারাইয়ে এত দীর্ঘ সময় লাগছে কেন? এমন পরিস্থিতিতে ট্রান্সফরমারটি কি অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া যেত না? কল্যাণপুরে বর্তমানে ৩৩ কেভির একটি মাত্র ধলাবিল লাইন সচল রয়েছে, যা এই অঞ্চলের জন্য পর্যাপ্ত নয় বলেই মনে করছেন বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মকর্তারা।
এদিকে কল্যাণপুরে রয়েছে ১১ কেভির মোট পাঁচটি ডিস্ট্রিবিউশন ফিডার — কল্যাণপুর, আমপুরা, পশ্চিম ঘিলাতলী, কমলনগর এবং হাসপাতাল। নববর্ষের বিকেল থেকে এই পাঁচটি ফিডারও বিকল হয়ে পড়ে।
বিদ্যুৎ নিগমের সিনিয়র ম্যানেজার নন্দন দেবনাথ স্বীকার করেছেন, কর্মী স্বল্পতার কারণে পরিষেবায় সমস্যা হচ্ছে। মাত্র ৬ জন লাইন স্টাফ থাকা এই ধরনের বড় বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে অপ্রতুল। ঠিকাদারদের সাহায্য নিতে হলেও তা খরচ সাপেক্ষ।
এলাকাবাসীরা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছেন, “বিল আদায়ে দপ্তর একদিনও দেরি করে না, অথচ সামান্য সমস্যায় বিদ্যুৎ ফেরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরে। এই পরিষেবা নিয়ে আর কতদিন সহ্য করব?”
নববর্ষে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে গোটা কল্যাণপুরবাসী যে চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন, তা বলাই বাহুল্য। মানুষের দাবি, অবিলম্বে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করে এই ভঙ্গুর বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল করা হোক।

