প্রকাশ্য দিবালোকে কৈলাসহর মহকুমা শাসকের অফিস চত্বরে ঢুকে সরকারি কর্মচারীদের প্রাননাশের হুমকি, প্রতিবাদে কর্মবিরতি

কৈলাসহর, ৩ জানুয়ারি: গতকাল প্রকাশ্য দিবালোকে কৈলাসহরের মহকুমা শাসকের অফিস চত্বরে ঢুকে সরকারি কর্মচারীদের প্রাননাশের হুমকি দেয় দুস্কৃতিকারীরা। আজ এরই প্রতিবাদে কর্মবিরতিতে সামিল হয়েছেন অফিসের কর্মচারীরা। তাঁদের দাবি, অফিসে নিরাপত্তা প্রদান করতে হবে।কিন্তু কর্মবিরতি চলাকালীন অভিযুক্তরা
কর্মচারিদের কাছে ভুল স্বীকার করেছেন এবং ঘটনার মীমাংসা করায় কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেয় তাঁরা।

উল্লেখ্য, কৈলাসহরের মহকুমা শাসকের অফিস বিল্ডিং দীর্ঘ পুরনো হওয়ার ফলে রাজ্য সরকার সম্প্রতি অফিস বিল্ডিং নতুন নির্মানের সিদ্ধান্ত নেয়। খুব শীঘ্রই নতুন অফিস বিল্ডিংয়ের নির্মানের কাজ শুরু হবে। এর ফলে মহকুমাশাসকের অফিস আপাতত অস্থায়ী ভাবে কিছুদিনের জন্য অন্যত্র চলে যাবে। নতুন বিল্ডিং নির্মানের পূর্বে পুরনো বিল্ডিং ইতিমধ্যেই ভাংগার কাজ শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বিল্ডিং ভাঙ্গার কাজ চলাকালীন হঠাৎ কিছু যুবক হাতে ধারালো দা নিয়ে অফিস চত্বরে প্রবেশ করে। সেসময় কাজ তদারকিতে ছিলেন মহকুমা শাসকের সরকারি কর্মচারী রিক্সানিয়ানা দারলং সহ আরও কয়েকজন কর্মচারীরা। যুবকরা জিজ্ঞেস করেন কার নির্দেশে অফিস বিল্ডিং ভাঙ্গা হচ্ছে। এসব কাজ আমরা করাবো। এই কথা শোনার পর রিক্সানিয়ানা দারলং বলেন যে, আপনারা মহকুমাশাসক প্রদীপ সরকারকে গিয়ে জিজ্ঞেস করলে জানতে পারবেন। এই কথা বলতেই যুবকরা ধারালো দা দেখিয়ে প্রাননাশের হুমকি দেয়। এমনকি সরকারি কর্মচারীদের ঠেলা ধাক্কাও দিয়েছে বলেও অভিযোগ সরকারি কর্মচারীদের।

যদিও গতকাল মহকুমা শাসক প্রদীপ সরকার অফিসে ছিলেন না। কারন মহকুমাশাসক প্রদীপ সরকার ছুটিতে ছিলেন। এই ঘটনায় মহকুমা শাসকের সরকারি কর্মচারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে আজ সবাই একসাথে অফিস শুরুর প্রথমার্ধে পেন স্ট্রাইক তথা কর্মবিরতি শুরু করে। এই কর্মবিরতির ফলে মহকুমাশাসকের অফিসের সব সেকশনের কাজ বন্ধ ছিলো।

এবিষয়ে এক সরকারি কর্মচারী বলেন, এভাবে অফিস চত্বরে এসে প্রাননাশের হুমকি দেওয়ার ফলে তাঁরা নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন। তাই যতক্ষন অব্দি ঘটনার সমাধান হবে না ততক্ষণ অব্দি কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়া হবে বলে জানান

তবে, গতকালের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সরকারি কর্মচারী রিক্সানিয়ানা দারলং জানান যে, তার সাথেই ধারালো দা নিয়ে যুবকরা প্রথমে ঠেলা ধাক্কা দেয় এবং কথা কাটাকাটি করে। পরবর্তী সময়ে, যুবকরা অফিসের অন্যান্য সরকারি কর্মচারীদের সাথেও কথা কাটাকাটি করে এবং অভব্য আচরণ করে। তাই আজ মহকুমা শাসকের অফিসে কর্মবিরতি ডাক দিয়েছিল। কিন্তু কর্মবিরতি চলাকালীন ঘটনার সাথে জড়িত যুবকরা অফিসে এসে সরকারি কর্মচারিদের কাছে ভুল স্বীকার করেছে এবং ঘটনার মীমাংসা করায় কর্মচারিরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেয় বলে জানান সরকারি কর্মচারী রিক্সানিয়ানা দারলং।