আগরতলা, ৯ ডিসেম্বর : প্রয়াত হলেন ত্রিপুরার উদ্যোগপতি সিস্টার গুঁড়া মশলার কর্ণধার গৌতম পাল। আজ সকালে কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর প্রয়াণে শিল্পজগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এদিকে, তাঁর প্রয়াণে মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাছাড়া, শোক প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিটব্যুরোর সদস্য মানিক সরকার, মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক, মেয়র দীপক মজুমদার।
প্রসঙ্গত, আজ সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন ত্রিপুরার উদ্যোগপতি সিস্টার গুঁড়া মশলার কর্ণধার গৌতম পাল। দীর্ঘ দিন ধরে কিডনি রোগে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীনে ছিলেন। তিনি মানবদরদি ছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। আজ সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। তিনি স্ত্রী, কন্যা সহ আত্মীয় স্বজন ও বহু গুণমুগ্ধদের রেখে গেছেন।
তাঁর প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা:) মানিক সাহা। তিনি বলেন, রাজ্যের বিশিষ্ট উদ্যোগপতি তথা সিস্টার গুঁড়ো মশলার কর্ণধার গৌতম পাল মহোদয়ের আকষ্মিক প্রয়াণে আমি গভীর ভাবে শোকাহত।
ঈশ্বরের নিকট আমি তাঁর বিদেহী আত্মার সদ্গতি কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।
তাছাড়া, তাঁর প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক। তিনি বলেন, ত্রিপুরার সুপরিচিত বিশিষ্ট শিল্পপতি তথা সিস্টার গুঁড়ো মশলার কর্ণধার গৌতম পাল-এর প্রয়াণে আমি শোকাহত। বড় অসময়ে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। রাজ্যের একজন বিশিষ্ট শিল্পপতি হিসেবে উনার অবদান চিরকাল রাজ্যবাসী মনে রাখবে। আমি ঈশ্বরের নিকট তাঁর বিদেহী আত্মার সৎগতি কমনা করি পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা জানাই। পাশাপাশি, তাঁর প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী এবং আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার।
এদিকে, ত্রিপুরার অন্যতম উদ্যোগপতি গৌতম পালের আকস্মিক প্রয়াত হবার সংবাদ জেনে মর্মাহত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিটব্যুরোর সদস্য মানিক সরকার। তিনি বলেন, তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি এবং পরিবার পরিজনদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।
ত্রিপুরায় রান্নার গুঁড়োমশলা তৈরীর শিল্প গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাবার হাত ধরে গৌতম পাল নিজেকে ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছিলেন এবং সাফল্যের সাথে এই শিল্পে অন্যতম অগ্রনী হিসাবে প্রতিষ্ঠা অর্জন করেছিলেন। এই শিল্পকে ভিত্তি করে ত্রিপুরার বহু বেকার ছেলে মেয়ের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে কাজের সংস্থান করে গেছেন। মানব দরদী মনোভাব নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন অকৃপন ভাবে। ভদ্র, বিনয়ী এবং অমায়িক ছিলেন।

