নিজস্ব প্রতিনিধি, বিলোনিয়া, ২৩ অক্টোবর : পাচার সাম্রাজ্যের বিস্তার অব্যাহত রয়েছে দক্ষিণ জেলা জুড়ে। শাসকদলের নামধারী কিছু নেতা সহ কিছু সীমান্তরক্ষী বাহিনীদের ম্যানেজ করে চলছে পাচার বাণিজ্য। বিলোনিয়া মহকুমার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে যেমন মতাই, নলুয়া, রাঙ্গামুড়া, আইসিনগর, গিরিধারী ৪নং ব্রিজ এলাকা, আমজাদনগর এলাকা দিয়ে চলছে দেদার পাচার বাণিজ্য। কাঁটাতার সীমান্ত এলাকা দিয়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনীদের কঠোর নজরদারি থাকা সত্ত্বেও কিভাবে পাচার হচ্ছে ভারতীয় পণ্য সামগ্রী এ নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
এখানে শেষ নয় বাংলাদেশ থেকেও বিভিন্ন অবৈধ জিনিসপত্র উঠছে কাঁটাতার সীমান্ত দিয়ে। অভিযোগ যে সময় পাচার বাণিজ্যের কাজ চলে সে সময় ঢিলেঢালা নজরদারি রাখে সীমান্তরক্ষী বাহিনীরা। এই পাচারকারীদের নাকি সীমান্তরক্ষী বাহিনীরা পাচারের সুযোগ করে গোপন লেনদেনের বিনিময়ে এমনই গুঞ্জন রয়েছে এলাকাবাসীদের মধ্যে।
মঙ্গলবার রাতে বিলোনিয়া মহকুমার মতাই কৃষ্ণপুর এলাকার একটি বাড়ি থেকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করে ৩৫ বস্তা কাপড়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান চলে সাব ইন্সপেক্টর স্বপন সেনের নেতৃত্বে। কাপড়ের বস্তা উদ্ধার হলেও এই কাপড়ের বস্তার মালিকের হদিস পায়নি পুলিশ। যে বাড়ি থেকে কাপড়ের বস্তা গুলো উদ্ধার হয়েছে , সে মালিককে কেন আটক করেনি পুলিশ তা নিয়ে গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের অভিমত বাড়ির মালিককে পুলিশ আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই পাচারকারীদের হদিস পাওয়া যেত।
জানা যায় আগরতলা গোলবাজার এলাকার কাপড় ব্যবসায়ী সমীর পালের দোকান থেকে এই কাপড়গুলি নিয়ে আসা হয় মতাই কৃষ্ণপুর এলাকার জনৈক ব্যক্তির বাড়িতে। এই কাপড়গুলি পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা হয় বলে পুলিশের অনুমান। পরবর্তী সময়ে পুলিশ কাপড়ের বস্তাগুলো নিয়ে আসা হয় বিলোনিয়া থানাতে। ৩৫ বস্তার মধ্যে ৫৪০টা শাড়ি ও ১৭০০ টি বিভিন্ন আকরের শার্ট পাওয়া যায় । পুলিশ একটি মামলা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে ।
সূত্রে জানা যায়, এই কাপড় গুলো নাসির মিয়ার। এই নাসির মিয়া পাচারকারীর সাথে যুক্ত । বাড়ি বিলোনিয়া আমজাদনগর এলাকাতে। এই নাসির মিয়া অবৈধ পাচার বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত বলে গুঞ্জন রয়েছে বিলোনিয়া মহকুমা জুড়ে । সে আবার সংখ্যালঘু মোর্চার নেতা। সে দাপট দেখিয়ে চালাচ্ছে পাচার বাণিজ্য। মানব পাচার থেকে শুরু করে নেশা কারবারি ও ভারতীয় পণ্য সামগ্রী পাচার করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পুলিশ ও বিএসএফের খাতায় নাসির মিয়ার বিরুদ্ধে পাচারকারীর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে না এ নিয়েও প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।

