নিজস্ব প্রতিনিধি, লংতরাইভ্যালী , ২ অক্টোবর: বাঁশের বনে মায়ের আগমন থিম নিয়ে দূর্গা পূজোর আয়োজনে ব্রতী ধলাই জেলার বিরাশি মাইলের ইয়ং রাইজিং স্টার ক্লাব। ত্রিপুরার ঐতিহ্য বাঁশ শিল্পকে ফুটিয়ে তুলতে জোর গতিতে কাজ চালাচ্ছে উদ্যোক্তারা। বাঁশের বনে দেবী দূর্গার আগমন দেখতে চান? তবে ঘুরে আসুন ত্রিপুরার ধলাই জেলার লংতরাইভ্যালী মহকুমার বিরাশিমাইল ইয়ং রাইজিং স্টার ক্লাবে। ত্রিপুরার ঐতিহ্য বাঁশ শিল্পের বিভিন্ন কারুকার্যের দ্বারা নির্মিত মণ্ডপে বাঙালীর ঘরের মেয়েকে বরন করতে চলছে জোরদার প্রস্তুতি।
টানা একটি বছরের অপেক্ষার পর পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে সূচনা হয়ে গিয়েছে মাতৃপক্ষের। শাস্ত্রমতে স্বামীর বাড়ী থেকে বাপের বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন মা উমা। কয়েকমাস আগে থেকেই দেবী বরনের প্রস্তুতি শুরু হলেও মায়ের আসার সময় যতোই এগোচ্ছে সব জায়গাতেই ততোই যেন কাজের গতি বাড়ছে পূজো আয়োজকদের মাঝে। সমগ্র ত্রিপুরা জুড়েও ব্যাস্ততার ধুম পূজো উদ্যোগতাদের মধ্যে। তবে ত্রিপুরার সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া বন্যার জেরে পূজোর আয়োজনে হ্রাস টেনেছেন অনেকেই।
ত্রিপুরার বিভিন্ন জায়গার সাথে ধলাই জেলার লংতরাইভ্যালী মহকুমাতেও বেশ কয়েকটি পূজোর আয়োজন থাকলেও একমাত্র থিমের পূজো করে দর্শনার্থীদের তাক লাগাতে উদ্যোগী হয়েছে বিরাশিমাইলের ইয়ং রাইজিং স্টার ক্লাব। ক্লাব কর্মকর্তা চিরঞ্জিত দেব জানিয়েছেন এবারে তাদের দ্বাদশতম পূজোর আয়োজন। “বাঁশের বনে মায়ের আগমন” থিমের উপর তৈরী হচ্ছে এবারের পূজো মণ্ডপ। রাজধানী আগরতলার মণ্ডপ শিল্পী দ্বারা ত্রিপুরার ঐতিহ্য তথা সম্পূর্ন বাঁশ বেতের কারুকার্যে বিরাশিমাইল বাজার সংলগ্ন স্থানে গড়ে তোলা হচ্ছে প্যাণ্ডেল এবং স্থানীয় মৃৎ শিল্পী দ্বারা ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে মৃন্ময়ী মায়ের চিন্ময়ী রূপ।
স্থানীয় শিল্পীদের দ্বারাই আলোর রোসনায় সেজে উঠবে পূজো মণ্ডপ। বিগত একমাস ধরেই চলে আসছে পূজোর সমস্ত ধরনের কাজকর্ম। সবমিলিয়ে এবারে তাদের পূজোর বাজেট সর্বোচ্চ নয় লক্ষ টাকা বলে জানিয়েছেন ক্লাব সদস্য। প্রতিবছরই পূজোর মাধ্যমে বিশেষ কিছু নতুনত্ব তুলে ধরার চেষ্টা করে গ্রামীন এলাকার এই ক্লাব। এই পূজোকে ঘিরে এলাকার মানুষের মধ্যে থাকে বাড়তি উৎসাহ।
গতবছর দূর্গাপূজো থেকে নিজেদের বিরত রেখেছিলো ক্লাব কর্মকর্তারা। তাই ক্লাবের প্রতি এলাকার মানুষের আকাঙ্খাকে গুরুত্ব দিয়ে সবেমাত্র বন্যা পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠেই মানুষকে এবারে স্বল্প বাজেটে সুন্দর পুজো উপহার দিতে এই আয়োজন বলে জানান ক্লাব কর্মকর্তা।
কৈলাশ থেকে রওনা দিয়েছেন দেবী দূর্গা। আর মাত্র একটি সপ্তাহ পরই ঘরের মেয়ে ফিরবেন নিজ বাড়ীতে। হাতে সময় আর নেই, তাই দিনরাত এক করে নির্মান শ্রমিকরা ব্যাস্ত কাজ সম্পন্ন করতে। এবারও গ্রামীন এলাকা বিরাশিমাইলের এই পূজো দর্শনার্থীদের মনে জায়গা করে নেবে বলে আশাবাদী ক্লাব কর্মকর্তারা।

