আগরতলা, ২৯ সেপ্টেম্বর: উগ্রপন্থায় ক্ষতিগ্রস্তদের কথা মনে নেই রাজ্য সরকারের। এমনটাই অভিযোগ তুলেছে পশ্চিম ত্রিপুরা ও সিপাহীজলা জেলা উদ্বাস্তু উন্নয়ন কমিটি। অবিলম্বে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য সরকার তাদের দাবি পূরণের প্রয়োজনে পদক্ষেপ গ্রহণ না করে তাহলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবে উদ্বাস্তুরা।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ঘটা করে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাজ্যের নিষিদ্ধ জঙ্গি গোষ্ঠীর নেতৃত্ব এবং জঙ্গিদের মূল স্রোতে ফেরানোর লক্ষ্যে বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজ হাতে তাদের স্বাগত জানান কিন্তু যারা এই জঙ্গিগোষ্ঠীর নিষ্ঠুর কার্যকলাপের ফলে আজ গৃহহীন উদ্বাস্তু তাদের কথা মনে নেই সরকারের। কার্যত এমনই অভিযোগ তুলে ধরল পশ্চিম ত্রিপুরা ও সিপাহীজলা জেলা উদ্বাস্তু উন্নয়ন কমিটি।
রবিবার বিশালগড়ে সংগঠনের উদ্যোগে মধ্য লক্ষ্মীবিল এলাকায় এক সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বিস্তারিত জানাতে গিয়ে সংগঠনের সম্পাদক রাখাল দেবনাথ বলেন, এন এল এফ টি ও অন্যান্য জঙ্গিগোষ্ঠীর যারা ১৯৯৭ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত এডিসি এলাকাগুলোতে বসবাসরত বাঙালিদের ওপর নির্মম অত্যাচার ও হত্যাকান্ড সংগঠিত করেছে আজ তাদেরকে দিল্লি ডেকে তাদের দাবি পূরণ করছে সরকার।
একই সাথে তাদেরকে আড়াইশো কোটি টাকার প্যাকেজসহ অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে সেই সময়কালে যে বাঙালিরা এডিসি থেকে বিতারিত হয়েছে অন্যায় ও অবিচারের সম্মুখীন হয়েছিল তাদের বেমালুম ভুলে গেছে সরকার।
সেই সময় কালে সিপাহীজলা এবং পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার প্রায় সাড়ে ছ-হাজার পরিবার বিভিন্ন এলাকা যেরকম গাবর্ধী, জারুলবাছাই, কাঞ্চনমালা, দোহারাম, মহারাম, হিরাপুর, সিমনা, লাটিয়াছড়া ইত্যাদি বিভিন্ন এলাকা থেকে বিতাড়িত হয়েছে। তারপর থেকে বিগত ২৫ বছর ধরে পরিবারগুলো বারংবার প্রশাসনের কাছে তাদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরলেও আজ পর্যন্ত সেই উদ্বাস্তুদের সমস্যা সমাধানে এবং দাবি পূরণে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি সরকার। উল্টো যারা তাদের ক্ষতিসাধন করেছে সেইসব জঙ্গিগোষ্ঠীর দাবি পূরণ করছে।
এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে তারা হুঁশিয়ারি দেন যদি অবিলম্বে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য সরকার তাদের দাবি পূরণের প্রয়োজনে যদি পদক্ষেপ গ্রহণ না করে তাহলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবে উদ্বাস্তুরা। সম্পাদক ছাড়াও এদিনের এই সাংবাদিক সম্মেলনের উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের চেয়ারম্যান গোপাল লস্কর ও সভাপতি সজল পোদ্দার।