আগরতলা, ১৫ সেপ্টেম্বর : রাজ্যে সাম্প্রতিক বন্যায় সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের ৫০ কোটি টাকারও বেশি সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আজ আগরতলা প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স হলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা তপন কুমার দাস এ সংবাদ জানান।
তিনি জানান, বর্তমানে রাজ্যে ১০,২২২টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের মধ্যে ২,০২৯টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ২,০২৯ ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের মধ্যে ১০টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র সম্পূর্ণভাবে ভেঙ্গে গেছে এবং বাকি ২,০১৯টি কেন্দ্র ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১০৪টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের শৌচাগার এবং ১৫৬টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের রান্নাঘর সম্পূর্ণভাবে ভেঙ্গে গেছে। এছাড়াও ২,০২৯টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের প্রাক-বিদ্যালয় শিক্ষার সরঞ্জাম, দৈহিক বৃদ্ধি পরিমাপক যন্ত্র, শিশুর বসার সরঞ্জাম, গ্যাসের চুল্লি, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের বিভিন্ন আসবাবপত্র, বিভিন্ন রেজিস্টার ইত্যাদি সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের মোট ৪০,৮৮৫ কেজি মিশ্রিত চাল ডাল বন্যার জল ঢুকে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির জন্য দপ্তরের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। বন্যার জলের সঙ্গে ভেসে আসা কাদা, মাটি এবং বিভিন্ন নোংরা পদার্থ পরিষ্কার করে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে পঠন পাঠনের কাজ শুরু করা হয়েছে। তবে দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার সাব্রুম মহকুমায় ২টি ও গোমতী জেলার অমরপুর মহকুমায় ৪টি অর্থাৎ মোট ৬টি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি। ঐ কেন্দ্রগুলির মা ও শিশুদের পরিষেবা প্রদান করা হচ্ছে নিকটবর্তী কোনও বাড়িতে বা কমিউনিটি হলে। যেসব অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে বন্যা পরবর্তী সময়েও পঠন পাঠনের কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি, সেখানে শিশু এবং মায়েদের খাদ্যসামগ্রী (টেক হোম রেশন) বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বন্যার ফলে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা পূরণের জন্য দপ্তর সামগ্রিকভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং আর্থিক অনুদান মঞ্জুরির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে অধিকর্তা জানান, রাজ্যের উদয়পুর মহকুমায় অবস্থিত এনজিও পরিচালিত ‘আলোর দিশারি’ নামক চাইল্ড কেয়ার ইনস্টিটিউটটি পুরোপুরি জলের তলায় ডুবে গিয়েছিল যার ফলে এটি সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই চাইন্ড কেয়ার ইনস্টিটিউটের ১৯ জন ছেলে আবাসিককে খিলপাড়া চাইল্ড কেয়ার ইনস্টিটিউটে স্থানান্তরিত করা হয়েছে এবং ২৮ জন মেয়ে আবাসিককে তেপানিয়াস্থিত ওয়ান স্টপ সেন্টারে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ‘আলোর দিশারি’ চাইন্ড কেয়ার ইনস্টিটিউটকে ডিজাস্টার রিলিফ ফান্ড থেকে ৫০টি খাট, ৫০টি মশারি, ৫০টি বিছানার সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট জেলাশাসক এনজিও-র নন-রেকারিং ফান্ড থেকে ২টি আর.ও, ২টি রেফ্রিজেরেটর, ১টি টেলিভিশন, ২টি ইনভার্টার দেওয়া হয়েছে।