আগরতলা, ২৪ আগস্ট : প্রতিবেশীরা সুরক্ষিত থাকলেই আমরা শান্তিতে থাকতে পারব। ডুম্বুরের বাঁধ খুলে দেওয়ায় বাংলাদেশে বন্যা হয়েছে অভিযোগের খন্ডন করে ত্রিপুরার বিদ্যুৎ মন্ত্রী রতন লাল নাথ এইভাবেই দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মাধুর্য তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, ডুম্বুরের বাঁধ খোলা হয়নি। জলস্তর বৃদ্ধিতে বাঁধের গেইট নিজে থেকেই জল ছাড়তে শুরু করবে। তেমনি, ধারণ ক্ষমতায় জলস্তর নেমে গেলে বাঁধের গেইট দিয়ে জল ছাড়া বন্ধ হয়ে যাবে।
শুক্রবার সচিবালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে বিদ্যুৎ মন্ত্রী ভারতের সাথে বাংলাদেশের মধুর সম্পর্কের তাত্পর্য ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, জ্ঞানত ভারত কখনোই বাংলাদেশের ক্ষতি হোক চাইবে না। প্রকৃতির মর্জির উপর কারোর হাত নেই। ফলে, বাংলাদেশে বন্যার জন্য ভারতকে দায়ী করা উচিত হচ্ছে না।
তাঁর দাবি, ত্রিপুরায় ডুম্বুরের বাঁধ খুলে দেওয়ায় বাংলাদেশে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা সঠিক নয় এবং সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কারণ, ওই বাঁধ খুলে দেওয়া হলে সবচেয়ে বেশি ত্রিপুরার ক্ষতি হতো। তিনি জোর গলায় বলে, সর্বকালের রেকর্ড ছাপিয়ে এবার ত্রিপুরায় বৃষ্টিপাত হয়েছে। কিন্তু, ডুম্বুরের বাঁধ খুলে দেওয়া হয়নি।
তাঁর কথায়, ডুম্বুরের বাঁধে ধারণ ক্ষমতা ৯৪ মিটার। জলস্তর ওই উচ্চতা অতিক্রম করলেই বাঁধের গেইট নিজে থেকেই জল ছাড়তে শুরু করবে। পুণরায় জলস্তর ধারণ ক্ষমতায় ফিরে আসলে জল ছাড়া বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু, ডুম্বুরের বাঁধ নিয়ে গুজব ছড়ানো হয়েছে। মানুষও ওই গুজবে কান দিয়ে বিভ্রান্ত হয়েছেন।
তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সুরে বলেন, বাংলাদেশের ক্ষতি হোক ভারত কখনোই চাইবে না। তেমনি ভারত কখনোই বাংলাদেশের ক্ষতি করবে না। যদি সেই মানসিকতা আমাদের থাকতো, তাহলে বাংলাদেশে বিদ্যুতের ১৪০ কোটি টাকা বকেয়া থাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হতো। তাঁর কথায়, প্রতিবেশী দেশের সাথে ভারত বরাবরই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। কারণ, প্রতিবেশীরা সুরক্ষিত থাকলেই আমরা শান্তিতে থাকতে পারব।

