টানা বর্ষণ, জলমগ্ন আগরতলার বিভিন্ন রাস্তা, ব্যাহত জনজীবন

আগরতলা, ২১ আগস্ট: তিনদিন ধরে টানা বর্ষণের জেরে ত্রিপুরায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আগরতলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত। ফলে জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। গৃহবন্দী হয়ে পড়েছে মানুষ। এদিকে, হাওড়া নদীর জল বেড়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ইতিমধ্যে প্রসাশনের তরফ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসনের সমস্ত আধিকারিক, এনডিআরএফ (ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স), এসডিআরএফ (স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স) বন্যায় জনগণকে সহায়তা দেওয়ার জন্য একসাথে কাজ করছে।

প্রসঙ্গত, তিনদিন ধরে টানা বৃষ্টিপাতে ত্রিপুরায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যের নদীগুলো বিপদ সীমা পেরিয়ে গেছে। ফলে রাজ্যে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। হাওড়া নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেয়ে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। আগরতলার বিভিন্ন জায়গায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ওরিয়েন্টে চৌমুহনী, শকুন্তলা রোড, জেকস গেইট, প্যারাডাইস চৌমুহনী, বনমালী পুর, পূর্ব থানা রোড, মেলারমাঠ, বটতলা, আইএসবিটি, বলদাখাল, শ্রীলঙ্কা বস্তি, লক্ষ্ণীনারায়ণ বাড়ি, আইজিএম চৌমুহনী, দূর্গাচৌমুহনী, মঠ চৌমুহনী সহ বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে।

এদিকে, গোমতী নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। উদয়পুরের গজ স্টেশন সংলগ্ন স্থানে গোমতীর নদীর জলস্তর বেড়ে হল ২১. ৯০ মিটার । যেকোন সময় ছাড়িয়ে যেতে চরম বিপদজনক মাত্রা। গোমতী নদীর পাড়ে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনার কাজ অব্যাহত রয়েছে। যদিও মঙ্গলবার রাত থেকেই বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনের তরফ থেকে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কোথাও কোথাও এলাকার মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে গভীর রাত পর্যন্ত নিজেদের সবজি ক্ষেতগুলি রক্ষা করার চেষ্টা জারি রেখেছিল কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।

তাছাড়া, ডুম্বুরের বাঁধ ছাড়ার পরেই গোমতী নদীর জলের স্তর বিপদসীমার উপর দিয়ে বইতে থাকে। সকালে তা অনেকটাই আয়ত্তের বাইরে চলে যায়। সম্পূর্ণ বিষয়টি নিজে উপস্থিত থেকে তদারকি করছেন সোনামুড়া মহকুমা শাসক অরূপ দেব।

এদিকে, টানা বৃষ্টির জেরে খোয়াই জেলাতেও দেখা যাচ্ছে বন্যার ভয়াবহ প্রভাব । এখনো পর্যন্ত খোয়াই জেলাতে ৪৩ টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে ইতিমধ্যেই আশ্রয় নিয়েছে বর্ণা দুর্গতরা। আরো কয়েকটি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হবে বলে প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে। যাদের বাড়ি ঘর ইতিমধ্যেই জলমগ্ন হয়ে গেছে তাদের অতিসত্বর ত্রাণ কেন্দ্রে চলে আসার অনুরোধ জানালো প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *