আগরতলা, ১৪ আগস্ট: শিক্ষক অভিজিৎ দে কে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার পরও তাকে চিকিৎসা না করে আদালতে তোলা হয়েছিল। যার কারণে বিনা চিকিৎসায় তার মৃত্যু হয়েছে। আজ নিহতের পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করে এমনটাই অভিযোগ করেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। সাথে তিনি যোগ করেন, শিক্ষক অভিজিৎ দে হত্যাকান্ড একটি পূর্ব পরিকল্পিত ঘটনা। শাসক দলের ছত্র ছায়ায় থেকেই শিক্ষক খুন কান্ডের মূল অভিযুক্ত শঙ্কর কর্মকারের এই বাড়বাড়ন্ত পেয়েছে।
এদিন তিনি বলেন, গত ৮ আগস্ট রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিন উদয়পুর আই এস অফিসের বিপরীতে অবস্থিত তৈবান্দাল দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক অভিজিৎ দেকে উদয়পুর সেন্ট্রাল রোড স্থিত টং দোকানের সামনে থেকে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে অসুস্থ করে।ঘাতক দুই মূল অভিযুক্ত উদয়পুর পোলট্রি রোড এলাকার জয়ন্ত সাহা ও শংকর কর্মকার। পরে শিক্ষক অভিজিৎ-এর স্ত্রীকে খবর দিয়ে নিয়ে গিয়ে স্ত্রীর সামনে অমানুষিক নির্যাতন ও আঘাত করে উদয়পুর পোলট্রি রোড এলাকার শংকর রাম কর্মকার, জয়ন্ত সাহা সহ আরো অনেকে। শিক্ষক অভিজিৎ দের উপর অমানুষিক নির্যাতন ও অত্যাচারের পর অভিযুক্ত শংকর ও জয়ন্ত রাধাকিশোরপুর থানায় খবর দিলে রাধাকিশোরপুর থানার পুলিশ অভিজিৎকে থানায় নিয়ে গিয়েছিল। পরদিন নয় আগস্ট দুপুরে পক্সো আইনে আদালতে তোলা হলে আদালত অভিজিৎ-এর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে অভিজিৎ-এর জামিন মঞ্জুর করেন। কিন্তু তারপর তাকে বাঁচানো সম্ভব হল না।
তাঁর অভিযোগ, অভিজিৎ -কে পিটিয়ে গুরুতর আ*হত করার পরও তাকে চিকিৎসা না করে আদালতে তোলা হয়েছিল। যার কারনে বিনা চিকিৎসায় তার মৃত্যু হয়েছে। আসলে এই হত্যাকান্ড পূর্ব পরিকল্পিত ঘটনা। এই ঘটনার সাথে জড়িত শুধু মূল অভিযুক্ত নয়, মূল অভিযুক্তের সাথে জড়িত কর্তব্যরত পুলিশ অফিসার এবং গোমতী জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক বলে অভিযোগ করেন তিনি।পুলিশ যদি উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নিতো তাহলে হয়তো আক্রান্ত শিক্ষক অভিজিৎ দে’কে কে বাঁচানো যেত বলেন তিনি।এদিন তিনি গোটা রাজ্যবাসীকে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে সরব হতে আবেদন জানিয়েছেন।