কলকাতা, ১৪ আগস্ট (হি.স.): আর জি কর হাসপাতালে পড়ুয়া চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের তদন্ত ঠিকপথেই এগোচ্ছিল বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তদন্ত সিবিআইয়ের হাতে চলে যাওয়ায় বুধবার মুখ্যমন্ত্রী তাঁর অসন্তোষ গোপন করেননি।বেহালার জনসভায় তিনি বলেন, “ছাত্রীর বাবা-মাকে বলেছিলাম, পুলিশ তদন্ত করবে এবং আমি ওঁদের ফাঁসি চাই। আমি সেই কথা প্রথম দিন থেকে বলে এসেছি। আজও আমি এটাতে বিশ্বাস করি। আমি বলেছিলাম, আমি আপনাদের বাড়ি খুব শীঘ্রই যাব। যেহেতু ওঁদের একটা কাজ ছিল। মৃত্যুর পর পারিবারিক কাজ থাকে। সেই সময় বিরক্ত করা ঠিক হবে না। রবিবার সম্ভবত ওঁদের কাজ ছিল। তাই সোমবার দিন আমি তাঁদের বাড়িতে গিয়েছিলাম।ঘটনা ঘটেছিল সম্ভবত শুক্রবার। আমি ওঁদের বাড়ি সোমবার গিয়েছিলাম। ততক্ষণ পর্যন্ত আমার সঙ্গে পুলিশের ১০০ বার কথা হয়েছে। মিনিট টু মিনিট। এমনকী তাঁর মৃতদেহের যতক্ষণ না পর্যন্ত সৎকার হয়েছে, পুলিশ পাহারায় মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছে।সারারাত জেগে তারা সিসিটিভি থেকে শুরু করে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ডাকা থেকে শুরু করে, ভিডিওগ্রাফি করে রাখা থেকে শুরু করে, তার পরের দিনও ডিএনএ পরীক্ষা করে।এর পর নমুনা সংগ্রহ, গত এক মাসের সিসিটিভি -তে কে আসছে, কে যাচ্ছে জানার জন্য ১৬৪ জনকে নিয়োগ করেছিল তারা। ১২ ঘণ্টার মধ্যে আসল যে খুনি তাকে জেরা করে তার প্রমাণ সংগ্রহ করে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, আমি রবিবার পর্যন্ত সময় দিয়েছিলাম। একটা তদন্ত করতে একটু সময় দিতে হয়। আমি স্বাস্থ্য দফতরকেও বলেছিলাম তদন্ত করতে। তদন্ত ছাড়া কাউকে গ্রেফতার করতে বলা যায় না। ৪৮ ঘণ্টা তদন্ত করে যখন জানাল তখন সবাইকে ওখান থেকে বদলি করে দিলাম।”মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সিবিআইকে যা যা সহযোগিতা করার এই মামলায় আমরা পুরোটাই করব। কারণ, আমাদের কোনও লেনাদেনা নেই। আমরা চাই, এই পাশবিক হত্যার বিরুদ্ধে নিশ্চয়ই তারা দোষী ব্যক্তিকে ফাঁসি দিক। রবিবার পর্যন্ত সময় নিয়েছিলাম। আমি তো সোমবার তাদের বাড়ি গিয়েছিলাম। বলেছিলাম, রবিবারের মধ্যে যদি সবটা তদন্ত শেষ না হয়, আমি সিবিআইকে দিয়ে দেব।৩৪ জনকে পুলিশ ডেকে কথা বলেছিল শুনেছি। আরও অনেকে ওদের তালিকায় ছিল। তাদের এই চার-পাঁচদিনের মধ্যে ডেকে কথা বলত। সেই সুযোটা তারা পায়নি, তাদের দেওয়া হয়নি। হাইকোর্ট যখন সিদ্ধান্ত নিয়ে সিবিআইকে দিয়েছে, আমার কোনও আপত্তি নেই। আমাকে দিতে হত যদি পুলিশ না করতে পারত। কিন্তু মনে রাখবেন, কলকাতা পুলিশের যে টিমকে আমরা কাজে লাগিয়েছিলাম, সেটা ওয়ান অফ দ্য বেস্ট টিম ইন দ্য ওয়ার্ল্ড।
2024-08-14

