আগরতলা, ১৯ জুলাই: পঞ্চায়েত নির্বাচনে গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পঞ্চায়েত সমিতিতে ৩৩৮৩টি আসনে কংগ্রেস প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিতে পারেন নি। এদিকে, রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্যপালের হস্তক্ষেপ চেয়েছে কংগ্রেসের সংসদীয় দল। আজ সাংবাদিক সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রেখেছেন কংগ্রেস নেতৃত্ব।
এদিন সুদীপ রায় বর্মনের কথায়, গন্ডাছড়ার ঘটনা একটি পরিকল্পিত ষঢ়যন্ত্র। এই ষঢ়যন্ত্রে নির্দোষ যুবক পরমেশ্বর রিয়াং শিকার হয়েছেন। তেমনি, রাজনগর ব্লকে বামফ্রন্টের সমর্থিত প্রার্থী হয়ে অপরাধ করেছিলেন বাদল শীল। তাই তাকে অপরাধের শাস্তি পেতে হয়েছে। বিজেপির শাসনকালে ত্রিপুরায় অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, সেই বিজেপি নিজেকে গণতন্ত্রের পূজারী বলে থাকে।
শ্রী বর্মনের দাবি, পঞ্চায়েত নির্বাচনে গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পঞ্চায়েত সমিতিতে ৩৩৮৩টি আসনে কংগ্রেস প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিতে পারেন নি। গতকাল কংগ্রেসের তরফ থেকে পুলিশকে জানানো হয়েছিল কোন কোন ব্লকে মনোনয়ন জমা দেওয়া হবে। পুলিশের কাছে প্রার্থীদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য আবেদনও করা হয়েছিল। তারপর ও প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিতে পারেন নি। কংগ্রেসের মিছিলে বিজেপি আশ্রিত দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়েছে। এটি হল ত্রিপুরার গণতন্ত্রের চিত্র। প্রশাসন নির্বিকার। তিনি বলেন, পঞ্চায়েত নির্বাচনে ত্রিপুরায় ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আজ রাজ্যে আইন শৃঙ্খলা তলানিতে নিয়ে ঠেকেছে।
এদিন তিনি বলেন, বিজেপির আশ্রিত দুর্বৃত্তরা দ্বারা ৭ বার আক্রান্ত হয়েছেন। অভিযুক্তদের পরিচয় দিতে থানায় মামলাও করা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ আজ পর্যন্ত একজনকেও আটক করতে ব্যর্থ হয়েছে। ত্রিপুরায় মহিলা অসুরক্ষিত। দুর্বৃত্তদের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। সারা রাজ্যে অরাজকতা চলছে। এর বিরুদ্ধে কংগ্রেসকে একত্র হয়ে লড়াই করতে হবে। বিজেপির অন্তর্দলীয় কোন্দলের কারণে জনসাধারণ এবং বিরোধীদলকে তার খেসারত দিতে হচ্ছে বলে দাবি করলেন তিনি।
এদিন কংগ্রেস সভাপতি আশিস কুমার সাহা বলেন, পঞ্চয়েত নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই রাজ্যজুড়ে সন্ত্রাসের বাতাবরণ কায়েম করে রেখেছে শাসক দল। কংগ্রেস সমর্থিত প্রার্থীদের মনোনয়ন দাখিলে বাধা দিচ্ছে। পুলিশের সামনে কংগ্রেসের একাংশ কর্মী সমর্থকরা আহত হয়েছেন। পুলিশ নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।
জাতীয় কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের সদ্যস তথা সাংসদ তারিক আনবার বলেন, ত্রিপুরার পঞ্চায়েত নির্বাচনের সন্ত্রাসের পরিস্থিতির রিপোর্ট জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বদের কাছে পেশ করা হবে। দুর্ভাগ্যের বিষয়, ত্রিপুরার আজ সংবিধান আক্রান্ত। পঞ্চায়েত নির্বাচনে কংগ্রেস সমৰ্থিত প্রার্থীদের মনোনয়ন দাখিল করতে বাধা দেওয়া হয়েছে। কংগ্রেসের মিছিলে হামলা করা হয়েছে। তাতে অনেক কংগ্রেস কর্মী ও সমর্থকরা আহত হয়েছেন। এটা থেকে স্পষ্ট, ত্রিপুরায় আইন শৃঙ্খলা বলতে কিছুই নেই। গতকাল ত্রিপুরার রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লুর সাথে সাক্ষাৎকারে করা হয়েছিল। রাজ্যের উদ্ভূত পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজ্যপালকে হস্তক্ষেপ করতে হবে।

