আগরতলা, ২০ জুন : আচমকাই বোধজং বালিকা বিদ্যালয়ের একের পর এক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর কমপক্ষে ১২ জন ছাত্রীকে অ্যাম্বুলেন্সে করে জিবি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, হোস্টেলের খাবার খেয়ে তারা অসুস্থ হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এদিকে মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা অসুস্থ ছাত্রীদের চিকিৎসা সুনিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের এই বিষয়ে তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এদিকে খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে ছুটে গিয়েছেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলাশাসক ডঃ বিশাল কুমার, এস ডি এম মানিক লাল দাস, বিজেপি প্রদেশ সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য্য।
বিদ্যালয়ের জনৈক শিক্ষক জানিয়েছেন, আজ সকালে মহারাজা বীর বিক্রম ওয়েলফেয়ার সোসাইটির ছাত্রীবাসের ছাত্রীরা হঠাৎ বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর পেট ব্যথার সাথে সাথে বমি শুরু হয়। একের পর এক ছাত্রীরা অজ্ঞান হয়ে পড়ে। প্রায় ১৫ জন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে। সাথে সাথে ঘটনাস্থলে চারটি অ্যাম্বুলেন্স ছুটে গিয়েছে। তাদেরকে উদ্ধার করে জিবি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। কিন্তু কি কারণে তাঁরা অসুস্থ হয়েছে এখনো পর্যন্ত জানা যায় নি। ধারণা করা হচ্ছে, হোস্টেলের খাবার খেয়ে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন।
জনৈক ছাত্রী জানিয়েছেন, আজ সকালে ডাল ভাত খেয়ে বিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে গিয়েছিল তাঁরা। বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর হঠাৎ তাঁদের পেট ব্যথার সাথে বমি শুরু হয়। জনৈক অভিভাবক জানিয়েছেন, মহারাজা বীর বিক্রম ওয়েলফেয়ার সোসাইটির ছাত্রীবাসের খাবার পরিবেশন করা হয় তা নিম্মমানের। ছাত্রীদের পুষ্টিকর খাবার প্রদান করা হচ্ছে না। ফলে আজ ছাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে।
এদিকে সামাজিক মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা বলেন, বোধজং বালিকা বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের অসুস্থতার ঘটনা সম্পর্কে অবগত হয়েছি, বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে সরকার। ইতোমধ্যেই জিবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে অসুস্থ ছাত্রীদের চিকিৎসা সুনিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের এই সমগ্র বিষয়ে তদন্ত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এবিষয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসডিএম মানিক লাল দাস বলেন, বোধজং বালিকা বিদ্যালয়ের ১৫ জন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁরা সবাই মহারাজা বীর বিক্রম ওয়েলফেয়ার সোসাইটির ছাত্রীবাসে থাকেন। বিদ্যালয়ের বাকি ছাত্রীদের চিকিৎসকরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখছেন। বাকি ছাত্রীদের কোনো সমস্যা হলে তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।
এদিকে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলাশাসক ডঃ বিশাল কুমার বলেন, বোধজং বালিকা বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাসের ৫০ জন ছাত্রী মহারাজা বীর বিক্রম ওয়েলফেয়ার সোসাইটির ছাত্রীবাসে থাকেন। আজ তাঁরা বিদ্যালয়ে আসার পর অসুস্থ বোধ করেন। তাঁদের মধ্যে ১৫ জন ছাত্রীকে জিবি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বাকি ৩৫ জন ছাত্রীদের পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। এখনো পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এদিকে হোস্টেলের কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচন করা হবে। সাথে খাবারের পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হবে।