নদী ভাঙনের করাল গ্রাসের শিকার কুমারঘাট পুর পরিষদ এলাকার জনগণ

নিজস্ব প্রতিনিধি, কুমারঘাট, ১২ জুন: একটানা ভাঙনে এখন নদীগর্ভে তলিয়ে যাবার উপক্রম মানুষের ভিটেমাটি। উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্বিকার বলে অভিযোগ। দাবী উঠছে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহনের।
বছরের পর বছর ধরে নদী ভাঙনের শিকার রাজ্যের কুমারঘাট পুর পরিষদের চার নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত পুরাতন শিবথলী এলাকার বাসিন্দারা। ভাঙ্গন রোধে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

প্রতিবছর নদী ভাঙ্গন সংষ্কার একপ্রকার কামধেনুতে যেন পরিনত ঠিকেদার সংস্থার। দপ্তরের উদাসীনতায় বর্তমানে ভিটেমাটি হারানোর উপক্রম সেখানকার বাসিন্দাদের। দাবী উঠছে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহনের।

ঊনকোটি জেলার কুমারঘাট শহরের বুকচিরে গেছে দেওনদী। বছরের পর বছর ধরেই জলের তোড়ে ব্যাপক ভাঙন অব্যাহত ঐ নদীর তীরবর্তী এলাকায়। এই নদীর উপকূলবর্তী এলাকাতেই বসবাস করে আসছেন কুমারঘাট পুরপরিষদ এলাকার পুরাতন শিবথলী গ্রামের প্রায় চল্লিশটি পরিবার। বছরের পর বছর ধরে নদী ভাঙনের ফলে এখন সেইসব পরিবারগুলোর মাথায় হাত। নদীর করাল গ্রাসে নদীগর্ভেই তলিয়ে যাবার উপক্রম চন্দন সরকার, বিমল দাস, বিকাশ দাস সহ এমন আরো বেশ কয়েকটি পরিবারের ভিটেমাটি। প্রতি বছর‌ই বাড়ছে ভাঙ্গনের মাত্রা। সংশ্লিষ্ট বাসিন্দাদের বাড়ীর অভিমুখে নদীর ভাঙন যতোই বাড়ছে উদ্বেগ ততোই প্রকট হচ্ছে সেইসব পরিবারগুলোর। তাদের অভিযোগ স্থানীয়দের তরফে ভাঙ্গনের বিষয়টি প্রশাসনের গোচরে নেওয়া হলেও উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহনে নির্বিকার কর্তৃপক্ষ। ফলে ভিটেমাটি বাঁচানোর চিন্তা এখন কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে ভাঙনের শিকার হওয়া বাসিন্দাদেরকে।

যদিও ভাঙ্গন দেখা দিতেই লোক দেখানো কাজ স্বরূপ ভাঙ্গনের মুখে বালিভর্তি বস্তা ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়দের অভিযোগ নদীর ভাঙ্গন আটকাতে প্রতিবছরই ভাঙ্গন কবলিত জায়গায় এভাবে বালি ভর্তি বস্তা ফেলে নিজেদের বিরত্ব দেখায় দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তর। কিন্তু পরবর্তীতেই সেই বস্তা ভেসে যায় জলের তোড়ে। আর দপ্তরের এই পদক্ষেপে নদীভাঙ্গন রোধের কাজ রিতিমতো কামধেনুর রূপ নিয়েছে কাজের বরাদ পাওয়া ঠিকেদার সংস্থার। স্থানীয়রা চাইছেন ভাঙ্গন কবলিত অঞ্চলে অতিসত্তর সিমেন্টের তৈরী ব্লক ফেলে দীর্ঘস্থায়ী ব্যাবস্থা করা হোক ভাঙ্গন রোধের। নইলে ভিটেমাটি তলিয়ে গেলে উদ্বাস্তু হয়ে পড়তে হবে সেইসব পরিবারগুলোকে।

সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং ঠিকেদার সংস্থার যোগসাজসে প্রতিবছরই ভাঙ্গন রোধে এধরনের অস্থায়ী কাজ হয়ে আসছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ভাঙ্গনের মুখে থাকা সেইসব পরিবারগুলোর ভিটেমাটি বাঁচাাতে প্রশাসন ঠিক কবে নেবে উপযুক্ত পদক্ষেপ? প্রশ্ন সাধারন মানুষের। আর সঠিক সময়ে পদক্ষেপ না নিলে হয়তো মাথা গোঁজার ঠাইটুকু হারিয়ে পথে বসতে হবে কুমারঘাটের পুরাতন শিবথলি এলাকার সেইসব পরিবারগুলোকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *