নিজ বাড়িতে ১৬ থেকে ১৭ প্রজাতির আমের নার্সারি করে তাক লাগিয়ে দিল এক যুবক

আগরতলা, ৯ মে: ইচ্ছে শক্তি থাকলেই উপায় হয়” কথাটি যে বাস্তব তা প্রমাণ করলো ধর্মনগরের এক যুবক। নিজ বাড়িতে ১৬ থেকে ১৭ বিভিন্ন দেশী ও বিদেশী প্রজাতির আমের নার্সারি করে তাক লাগিয়ে দিল ধর্মনগর শহরবাসীকে। ম্যাঙ্গো ম্যান বলে তাকে সবাই চেনে।

জানা গিয়েছে, ধর্মনগর মহকুমা অন্তর্গত শাকাইবাড়ী ৬ নং ওয়ার্ড এলাকার এক যুবক নাম বিশ্ব  রজ্ঞন দেবনাথ, বয়স ৩৯। সে ধর্মনগর পড়াশোনা শেষ করার পর পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় ত্রিপুরা রাজ্যে ত্যাগ করে বহিঃরাজ্যের কলকাতা তারপর হায়দ্রাবাদ চলে যায় অর্থ উপার্জনের লক্ষ্যে ও পরিবারকে আর্থিক স্বাচ্ছন্দে রাখার জন্য। বহিঃরাজ্যে কয়েক বছর থাকার পর তার ইচ্ছে হয় সে নিজের রাজ্যেই নিজের বাড়িতে এসে কিছু  করবে, সেই লক্ষ্যেই সে চলে আসে ধর্মনগর তার নিজস্ব বাড়িতে।

কিছুদিন ঘোরাঘুরির করার পর সে পরিকল্পনা করে একটি নার্সারি বাগান তৈরি করবে তার বাড়ির আধকানি জায়গাতে, সেই সুবাদে প্রশিক্ষণ নেবার জন্য সে পুনরায় চলে যায় হায়দ্রাবাদে এবং ফার্স্ট ফুড নার্সারি নামে একটি সংস্থার সে এক মাস ব্যাপী প্রশিক্ষণ নেয়। বাড়িতে ফিরে এসে যথারীতি সে  বিভিন্ন রকমের চারা গাছের নার্সারি করতে শুরু করে এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে ফলের গাছ। সে তার নার্সারিতে চারা গাছ তৈরি করে এবং বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করা শুরু করে,  ধর্মনগর শহরের বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে ফুলের গাছ, ফলের গাছ, বিভিন্ন ধরনের পাতাবাহার চারা গাছ বিক্রি করে।

এরকম করতে করতে সে নিজের বাড়িতে একটি বিশাল নার্সারি বাগান তৈরি করে ফেলেছে, তার নার্সারিতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফলের গাছ তার মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির ১৬ থেকে ১৭ ধরনের আমগাছ রয়েছে, ভারতের বিভিন্ন প্রজাতির আম রয়েছে তার বাগিচায় তাছাড়া বিদেশের তথা থাইল্যান্ড ও আমেরিকান প্রজাতির বিভিন্ন ধরনের আম রয়েছে। বিভিন্ন প্রজাতির আমের মধ্যে রয়েছে আলফানসো, মিয়াজাকি, নাম ডগ মাই, কিউজাই, চাকাপাত, কাটিমোন, কেননা ম্যাংগো, গোলাপ খাস, আর টু ই টু, রেড পালমার, হিমসাগর, দশেরি, ইত্যাদি | কিছু কিছু আম গাছে এখনো আমের বোল দিচ্ছে।

বর্তমানে তার নার্সারিতে সবগুলি আম গাছেই ধরে রয়েছে আম। এই দেখে প্রতিদিনই ধর্মনগরের বিভিন্ন জায়গা থেকে জনগণ ভীর জমাচ্ছে তার বাড়িতে। ছোটবেলা থেকেই তার ইচ্ছে ছিল একটি নার্সারি করার যা এখন বাস্তবায়নের রূপ নিয়েছে।  এখন তার নাম পড়েছে “ম্যাংগো ম্যান” হিসেবে এই নাম বললেই সবাই চেনে তাকে।

সে জানায় ছোটবেলা থেকেই কারো অধীনে কাজ করার তার ইচ্ছে ছিল না, সে চেয়েছিল তার নিজের কোন ব্যবসা হোক।এখন তার বার্ষিক আয় ভালো, পাশাপাশি সে অন্য ব্যবসাও করছে, পরিবার নিয়ে সুখে স্বাচ্ছন্দে জীবন যাপন করছে।