কল্যাণপুর, ২ এপ্রিল : ভয় দেখিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকাই ছিল কমিউনিস্টদের কাজ। আজ খোয়াই জেলার চাকমাঘাটে নির্বাচনী জনসভায় সিপিমের বিরুদ্ধে তীব্র কটাক্ষ করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডাঃ) মানিক সাহা।
আগামি নির্বাচনে পূর্ব ত্রিপুরা আসনে বিজেপি মনোনীত প্রার্থীকে জয়ী করার আহ্বান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য হচ্ছে ৭০ এর দশক থেকে শুরু করে ৩৫ বছর বামেরা এবং একটা সময়ে কংগ্রেস রাজ্যটাকে শেষ করে দিয়েছে।
এদিন তিনি বলেন,একটা সময় ত্রিপুরা রাজ্য মানেই ছিল আতঙ্ক, একটা সময় ত্রিপুরা রাজ্য মানেই ছিল হিংসার আশ্রয় গ্রহণ করে সংখ্যার জুড়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেন ২০১৮ সালে এ রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর মানুষের ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়ে বর্তমান সরকার ক্রমান্বয়ে উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ অব্যাহত রেখে চলেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, এই সময়ের মধ্যে মথা বিজেপির সাথে যুক্ত হয়ে যাওয়ায় উন্নয়নের গতিকে আরো বেশি ত্বরান্বিত করা যাবে। পাশাপাশি কল্যানপুরের আজকের এই আয়োজন থেকে মুখ্যমন্ত্রীর দৃঢ় আত্মবিশ্বাস আগামী নির্বাচনে পূর্ব এবং পশ্চিম উভয় আসনেই বিজেপি দলের জয় শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা। পাশাপাশি এদিন কল্যাণপুরে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন প্রতিশ্রুতি মতো বিগত বিধানসভা নির্বাচনে শান্তিপূর্ণভাবে এবং নির্ভীগ্নে তথা সাইন্টিফিক রেগিং বাদে নির্বাচন করে দেখিয়ে দিয়েছে বিজেপি দল।
এদিনের সভায় রাজ্যের মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা বলেন, কল্যাণপুরের মানুষ কখনোই ১৯৯৭ বা সমসাময়িক সময়ের সন্ত্রাসবাদের ঘটনাগুলো কখনোই ভুলতে পারবে না। বিভাজনের রাজনীতি করতে করতে কমিউনিস্টরা গোটা রাজ্যটাকে ধ্বংস করে দিয়েছে, তবে আগামী দিনে বিজেপির নেতৃত্বেই উন্নয়ন সুনিশ্চিত এমন দাবি করলেন সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া বা যুক্ত হওয়া অনিমেষ বাবু।
সমাজ কল্যাণ এবং সমাজ শিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী টিঙ্কু রায় বলেন, আগামী নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীকে জয়ী করার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি দাবি করেন এক সময়ে যারা কমিউনিস্ট করত তারাও কমিউনিস্টদের ঘৃণ্য রাজনীতির কারণে ভাতা সহ বিভিন্ন প্রকারের সামাজিক সুযোগ থেকে বঞ্চিত হত। তবে বর্তমানে সরকার প্রকৃত অর্থে সবকা সাথ, সবকা বিশ্বাসের নীতিতে ভিত্তি করে কাজ করে চলেছে বলে টিংকু রায় দাবি করেন।
সংক্ষিপ্ত পরিসরে আলোচনা করতে গিয়ে প্রার্থী কৃতি সিং উপস্থিত সকলের কাছে আশীর্বাদ প্রত্যাশা করে আগামী দিনে কাজ করার সুযোগ দাবি করেন।
কল্যাণপুরের লোটাস কমিউনিটি হলে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছিল। এদিনের সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অনেকেই বলছে তিপ্রা মথা কি করে পদ্ম ফুলে ভোট দেবে। আরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার যদি হাত চিহ্নে ভোট দিতে পারেন তাহলে চুক্তি সমাধান হবার পর মথা কেন পারবে না।
তিনি বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সকলেই যেখানে এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারতের কথা বলছেন এবং এই বিষয়ে গভীর ভাবে ভাবছেন তখন কেন বিজেপির হাতে হাত মেলাবে না তিপ্রা মথা। তিনি বলেন, মানুষ কে ভুল বুঝিয়ে দাবিয়ে রাখার দিন শেষ। উন্নয়ন দেখেই আজ তিপ্রা মথা ও বিজেপির পাশে। এদিকে মথা কে পাশে না পেয়ে কমিউনিস্ট ও কংগ্রেস এর মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে। তাদের পায়ের তলার মাটি এমন ভাবে সরে গেছে যার ফলে তারা আজ সম্পূর্ণ দিশা হীন।

