অভিজিৎকে নারী দিবসের সভায় তুলোধোনা মমতার

কলকাতা, ৭ মার্চ (হি.স.) : মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্ট থেকে বেরোনর সময় সদ্য পদত্যাগী বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, বিজেপিতে যাচ্ছি। বৃহস্পতিবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে গেরুয়া পতাকা হাতে তুলে নিয়ে অভিজিৎবাবু জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর লক্ষ্য বাংলা থেকে তৃণমূলের সরকারের বিদায় সূচনা নিশ্চিত করা।

কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ডোরিনা ক্রসিংয়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রাক্কালের সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাম না করে যার জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতার কথায়, “বিচারের চেয়ারে বসে বিজেপিবাবু বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা করেছেন! এদের হাতে মানুষ বিচার পাবেন? তবে আমি খুশি, এদের মুখোশটা খুলে পড়ে গেছে। এবার জনগণ ওঁর রায় দেবে।”

লোকসভা ভোটে তমলুক থেকে বিজেপির প্রার্থী হতে পারেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তার বিরুদ্ধে তৃণমূল কাকে প্রার্থী করবে তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে। এদিন ওই কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিলেন স্বয়ং তৃণমূল নেত্রী।

মমতার কথায়, “তৈরি থাকুন, আপনি যেখানে দাঁড়াবেন সেখানে আমি স্টুডেন্টদের নিয়ে যাব! ওরাই আপনার বিচার করবে, যাদের চাকরি আপনি খেয়েছেন।”

রাজনীতির পাশাপাশি মমতা আইনজীবীও। তাঁর কথায়, “আমি জাজ নিয়ে বলতে পারি না, কিন্তু জাজমেন্ট নিয়ে বলতে পারি। আমিও একজন আইনজীবী, আইনে কোনটা সঠিক, কোনটা বেঠিক আমরাও জানি।”

মমতা বলেন, “কোনও সুযোগ না দিয়ে ওয়ান সাইট গেম। অভিষেককে তো নাম করে করে রোজ গালাগালি দিত। রায় দেখে অনেকে আমাকে বলেওছেন, যা সব রায় বেরোচ্ছে, রায় দেখে তো রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারও ভয়ে পালিয়ে যাবে। তবে ওঁর মুখ থেকে মুখোশটা শেষ পর্যন্ত খসে পড়েছে এতে আমরা খুশী।”

প্রসঙ্গত, নিয়োগ দুর্নীতি মামলার রায়ের পাশাপাশি বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের একাধিক পর্যবেক্ষণকে ঘিরে বিভিন্নসময় সমাজে শোরগোল তৈরি হয়েছিল। তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ, আইনজীিবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়রা বিচারপতিকে আড়ালে থেকে রাজনীতি না করে সরাসরি রাজনীতির ময়দানে নামার আহ্বানও জানিয়েছিলেন।

এমনকী বিচারপতির পদ থেকে পদত্যাগ করার পরও অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ও জানিয়েছিলেন, “তৃণমূলই তাঁর অনুপ্রেরণা। শাসকদল তাঁকে এভাবে আক্রমণ না করলে হয়তো নতুন এই জগতের কথা তিনি ভাবতেনই না।”