হাফলং (অসম), ৪ মাৰ্চ (হি.স.) : ষষ্ঠ তফশিলির অধীন ডিমা হাসাও জেলায় পঞ্চায়েতরাজ ব্যবস্থা প্রবর্তনের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অসমের এই পাহাড়ি জেলায় তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ছাত্র সংগঠন সহ বিভিন্ন দল সংগঠন ডিমা হাসাও পঞ্চায়েত রাজ প্রবর্তনের বিরোধিতা করে আসছে।
জেলার বিভিন্ন দল সংগঠনের অভিযোগ, সরকার ষষ্ঠ তফশিলি তুলে দিয়ে উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের ক্ষমতা হ্রাস করে ষষ্ঠ তফশিলির অধীনে থাকা ডিমা হাসাও জেলায় বসবাসরত উপজাতি জনগোষ্ঠী ও অউপজাতি জনগোষ্ঠীর অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে। সরকার অসংবিধানিকভাবে ডিমা হাসাও জেলায় পঞ্চায়েতরাজ ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে চাইছে। তাই এই পঞ্চায়েতরাজ ব্যবস্থা প্রবর্তনের বিরোধিতা করে ডিমা হাসাও জেলায় ষষ্ঠ তফশিলি সুরক্ষা সমিতি নামে একটি সংগঠন তৈরি করা হয়েছে।
সোমবার হাফলং টাউনরাজি কমিউনিটি হল-এ এই কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ডিমা হাসাও জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন বিভিন্ন জাতি জনগোষ্ঠীর প্রধান সংগঠন এনজিও সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এদিন এই সভার পর এক সাংবাদিক সম্মেলন করে ডেনিয়েল লাংথাসা বলেন, ষষ্ঠ তফশিলির অধীনে উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদকে সুরক্ষিত রাখতে এবং যে কোনওভাবে এই পাহাড়ি জেলায় পঞ্চায়েতরাজ ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে যে চেষ্টা করা হচ্ছে তা আটকাতে এবং পাহাড়ে বসবাসরত উপজাতি জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষিত করার জন্য সবাইকে এক জোট হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তাই ষষ্ঠ তফশিলি সুরক্ষা সমিতি গঠন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, যখন এ নিয়ে কেউ বিরোধিতা করে তখনই জাতির নামে ধর্মের নামে বিভাজনের সৃষ্টি করার চেষ্টা চালানো হয়। এমন-কি রাজনৈতিক দলের নামে ছাত্র সংগঠনের নামে বিভাজনের সৃষ্টি করে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া বাঁধানোর চেষ্টা করা হয়। ডেনিয়েল লাংথাসা বলেন, ষষ্ঠ তফশিলি সুরক্ষা সমিতি নামে যে সংগঠন গঠিত হয়েছে তাতে সবাই যোগ দিতে পারবেন, যাতে এই কমিটি ডিমা হাসাও জেলায় জিপিডিপির অধীনে পঞ্চায়েতরাজ ব্যবস্থা প্রবর্তন করার যে অসংবিধানিক চেষ্টা চালানো হচ্ছে এর বিরুদ্ধে একজোট হয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়া যায়।
সাংবাদিক সম্মেলনে জুয়েল গার্লোসা বলেন, সরকার সংবিধানের ১২৫ ধারাকে সংশোধন করার জন্য আনন্দ শর্মাকে চেয়ারম্যান করে একটি পার্লিয়ামেন্ট স্ট্যান্ডিং কমিটি গঠন করে দিয়েছে। এ নিয়ে গৃহ মন্ত্রালয়ের পরামর্শ নেওয়ার জন্য। এই অবস্থায় তা যদি আইনে পরিণত হয়ে যায় তা-হলে পাহাড়ে বসবাসরত উপজাতি অউপজাতি সবাই নিজেদের অধিকার হারাবেন। তাই বিষয়টি ইতিবাচক না নেতিবাচক, এ নিয়ে খোলা মঞ্চে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা ডিমা হাসাও জেলার ভবিষ্যৎ চিন্তা করে এবং পাহাড়ে জাতি জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষার কথা চিন্তা করে ষষ্ঠ তফশিলি সুরক্ষা সমিতি গঠন করেছি।
এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের প্রাক্তন কার্যনির্বাহী সদস্য সুরজ নাইডিং, কংগ্রেস নেত্রী দিপালী হাপিলা, তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি আচিং জেমি প্রমুখ।



















