কুরমিদের পাশাপাশি আদিবাসীদের দাবি নিয়েও সরব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

পুরুলিয়া, ২৭ ফেব্রুয়ারি (হি.স.): লোকসভায় আদিবাসী এবং কুড়মি দুই জনজাতির ভোটই পেতে চায় তৃণমূল। সেটা করতে পারলে বিজেপির গড়েই গেরুয়া শিবিরকে ভালোমতো ধাক্কা দেওয়া যাবে। মঙ্গলবার তাই প্রকাশ্য সভায় কুরমিদের পাশাপাশি আদিবাসীদের দাবি নিয়েও সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে কৌশলে দায় চাপানোর চেষ্টা করলেন কেন্দ্রের উপরেও।

গত লোকসভা নির্বাচনে জঙ্গলমহল কার্যত শূন্য হাতে ফিরিয়েছিল তৃণমূলকে। সেই পরিস্থিতি বদলাতে এবার সফরের শুরুতেই জঙ্গলমহলের জ্বলন্ত কুড়মি সমস্যা মেটাতে উদ্যোগী হলেন মুখ্যমন্ত্রী।

আসলে গত কয়েক বছরে জঙ্গলমহলে আদিবাসী এবং কুড়মিদের মধ্যে একটা সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এর মূলে রয়েছে কুড়মিদের আদিবাসী তালিকাভুক্ত হওয়ার দাবি। গত কয়েকবছর ধরে কুড়মিরা আদিবাসী তালিকাভুক্ত হওয়ার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আগে রাজ্য সরকারের দ্বারস্থও হয়েছেন তাঁরা। আবার আদিবাসীরা সেটা মানতে নারাজ। আদিবাসীদের ধারণা, কুড়মিরা আদিবাসী স্বীকৃতি পেলে তাদের অধিকার খর্ব হবে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন ইঙ্গিত দিলেন, কুড়মিদের এই দাবির সঙ্গে তাঁর সহমর্মিতা থাকলেও রাজ্য সরকার নিরুপায়। বিষয়টি রাজ্যের এক্তিয়ারভুক্ত নয়। তবে এ নিয়ে রাজ্য সরকারের তরফেও বারবার কেন্দ্রের কাছে চিঠি লেখা হয়েছে, সেটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন মমতা।

রাজনৈতিক মহলের মতে, আগামী লোকসভা ভোটে আদিবাসী এবং কুড়মিদের বিবাদের সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা করবে বিজেপি। তাই মুখ্যমন্ত্রী এই সমস্যার সমাধান চান। মমতা এদিন ঘোষণা করেছেন, রাজ্যজুড়ে কোথায় কোথায় কুড়মিরা বসবাস করেন, তাদের জনসংখ্যা কত, সেসব নিয়ে সমীক্ষার কাজ শুরু করছে সরকার। যা কুড়মিদের দাবি পূরণের লক্ষ্যে কেন্দ্রর উপর চাপ বাড়ানোর প্রক্রিয়া হিসাবে দেখা হচ্ছে।

যদিও মুখ্যমন্ত্রী এদিন পুরুলিয়ার সভা থেকে বলেন,”ঝগড়া আমরা লাগাতে চাই না। মাহাতোদের (মাহাতো কুড়মি জনজাতিভুক্ত) দীর্ঘদিনের দাবি আদিবাসী হওয়ার। এটা আমার হাতে নেই। আমাকে দোষ দেবেন না। ভোট এলে কেউ কেউ আদিবাসী এবং মাহাতোদের ঝামেলা লাগানোর চেষ্টা করে। আমরা সেটা চাই না।” একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কারও যদি কোনও সমস্যা থাকে তাহলে সরাসরি তাঁর কাছে অভিযোগ জানাতে পারবেন।

উল্লেখ্য, রাজ্য সরকার গত কয়েক বছরে একাধিকবার কেন্দ্রের কাছে কুড়মিদের দাবি নিয়ে দরবার করেছে। একই সঙ্গে সারি ও সারণা ধর্মের স্বীকৃতির দাবিতেও কেন্দ্রকে চিঠি লিখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই সারি এবং সারণা ধর্মের স্বীকৃতি আবার আদিবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি। অর্থাৎ কুরমিদের পাশাপাশি আদিবাসীদের দাবি নিয়েও সরব মুখ্যমন্ত্রী। তিনি এও জানিয়েছেন, দ্রুত সারি এবং সারণা ধর্মকে স্বীকৃতির দাবি পূরণ না হলে মাঠে নেমে আন্দোলন হবে।