প্রৌঢ়ার রহস্যমৃত্যু, থানার সামনে বিজেপি-র বিক্ষোভ, অবরোধ

হুগলি, ১৩ ফেব্রুয়ারি (হি.স.): সোমবার রাতে পোলবার সুগন্ধায় পরিত্যক্ত কারখানার সামনে জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয় প্রৌঢ়ার রক্তাক্ত দেহ। মঙ্গলবার দোষীদের শাস্তির চেয়ে থানা ঘেরাও কর্মসূচি করে বিজেপি।

নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই কর্মসূচি হয়। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, খুন করে জঙ্গলে ফেলে দেওয়া হয়েছে ওই প্রৌঢ়াকে। বেলা হতেই রাজহাট-মহানাদ রোড অবরোধ করে বিজেপি। থানার সামনে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, প্রৌঢ়া খুনে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে হবে।

রাজ্যে নারী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে থাকেন বিজেপি কর্মীরা। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। লকেট চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ওই প্রৌঢ়কে সোমবার সন্ধে ৬ টার পর থেকে প্রতিবেশীরা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। পরে রাতের দিকে প্রৌঢ়ার গলাকাটা দু’টুকরো দেহ উদ্ধার হয়।

লকেট বলেন, “পুলিশ মৃত মহিলার অসুস্থ স্বামীর থেকে বয়ান লিখিয়ে নিতে চাইছিল। কিন্তু আমরা সেখানে গিয়ে পুলিশের কথামতো লেখা বয়ান বাতিল করে দিই। আসল দোষীদের আড়াল করতেই পুলিশ এই কাজ করছিল।”

প্রায় দেড় ঘণ্টা পর পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেয় বিজেপি। লকেট চট্টোপাধ্যায় কথায়, “পুলিশকে ৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যেই পুলিশ সক্রিয় হয়েছে স্লিপার ডগ নিয়ে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালানো হবে। সন্দেহজনক তিনজনকে আটক করা হয়েছে জানিয়েছে পুলিশ। আমরা আশা করব নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পুলিশ গ্রেফতার করবে। মৃতার ছেলে আমাদের দলের সক্রিয় কর্মী।

সুগন্ধার দিল্লি রোডের পাশের একটি ইট ভাটায় কাজ করতেন জোৎস্না জানা নামে ওই প্রৌঢ়া। তিনি ওই ইটভাটাতেই থাকতেন। ছাগল চড়াতে যেতেন বন্ধ রুইয়া কেমিক্যাল কারখানা চত্বরে। সেখানে থেকেই তাঁর গলা কাটা দেহ উদ্ধার হয়। কী কারণে এই খুন তা নিয়ে ধোঁয়াশায় মৃতার পরিবার। মৃতার ছোট ছেলে রবি জানা বলেন, ”কী কারণে মাকে খুন করা হল বুঝতে পারছি না। মা-বাবা দীর্ঘদিন ধরেই ইটভাটায় থাকেন। সোমবার ছাগল চড়াতে গিয়েছিলেন। আমি চাই দোষীদের শাস্তি।”

হুগলি গ্রামীণ পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, ঘটনায় ৩০২ ধারায় খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। কী কারণে এই ঘটনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মৃতদেহ চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে ময়না তদন্তে পাঠায় পোলবা পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *