রোজগার মেলার আওতায় সরকারি দপ্তর ও সংস্থাগুলিতে ১ লক্ষেরও বেশি নিয়োগপত্র তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

নয়াদিল্লি, ১২ ফেব্রুয়ারি ৷৷ আজ ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে নব-নিযুক্ত ১ লক্ষের বেশি যুবকদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একই সাথে তিনি নতুন দিল্লিতে ‘কর্মযোগী ভবন’ সুসংহত কমপ্লেক্সের প্রথম পর্যায়ের শিলান্যাসও করেছেন। এই ভবনটি মিশন কর্মযোগীর বিভিন্ন স্তম্ভের মধ্যে সহযোগিতা ও বোঝাপড়ার প্রসার ঘটাবে।

এ উপলক্ষে আয়োজিত একটি সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ ১ লক্ষের বেশি যুবকদের হাতে নিয়োগপত্র দেওয়া হল এবং এই উপলক্ষে তাঁদের ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরকে অভিনন্দন জানিযেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুবকদের চাকরির সুবিধা দিতে ভারত সরকারের অভিযান পুরোদমে চলছে। চাকরির জন্য বিজ্ঞপ্তি এবং নিয়োগপত্র দেওয়ার মধ্যে দীর্ঘসূত্রিতার নেপথ্যে উৎকোচ বৃদ্ধির প্রতি অঙ্গুলি নির্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার গোটা প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করে তুলেছে৷ সেই সাথে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করছে। তিনি বলেন, এরফলে প্রত্যেক যুবক তার সক্ষমতাকে তুলে ধরার জন্য সমানভাবে সুযোগ পাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে প্রত্যেক যুবক বিশ্বাস করে যে কঠোর শ্রম এবং দক্ষতা দিয়ে চাকরি ক্ষেত্রে তাঁরা তাঁদের অবস্থানকে দৃঢ় করতে পারবে। দেশের উন্নয়নে প্রত্যেক যুবকদের অংশীদারী করে তুলতে সরকারি প্রয়াসের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, গত ১০ বছরে বর্তমান সরকার পূর্বেকার সরকারগুলির তুলনায় ১.৫ গুণ বেশি চাকরি দিয়েছে। নতুন দিল্লিতে ‘কর্মযোগী ভবন’-এর সুসংহত কমপ্লেক্সের প্রথম পর্যায়ের শিলান্যাসের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এরফলে সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকারি উদ্যোগ আরও জোরদার হবে।

সরকারি প্রচেষ্টার ফলে নতুন নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি এবং কর্মসংস্থান ও স্বনিযুক্তির জন্য সুযোগ সৃষ্টির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাজেটে প্রায় ১ কোটি বাড়ির ছাদের ওপর সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের যন্ত্র বসানোর কথা ঘোষণা করা হয়েছে৷ এতে এই পরিবারগুলির বিদ্যুৎ বিল কমবে, উপরন্তু তাঁরা গ্রীডে বিদ্যুৎ এর জোগান দিয়ে অর্থ উপার্জন করতে সক্ষম হবেন। এই কর্মসূচি কয়েক লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি৷

প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ১.২৫ লক্ষ স্টার্টআপ নিয়ে ভারত বিশ্বের মধ্যে স্টার্টআপ ক্ষেত্রে তৃতীয় বৃহত্তম দেশ হিসেবে উঠে এসেছে৷ এই স্টার্টআপগুলির বেশিরভাগই আবার গড়ে উঠেছে দেশের দ্বিতীয় শ্রেণী এবং তৃতীয় শ্রেণীর শহরে৷ স্টার্টআপগুলি নতুন নতুন কাজের সৃষ্টি করছে দেখে সাম্প্রতিক বাজেটে স্টার্টআপগুলির জন্য কর ছাড় অব্যাহত রাখার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গবেষণা এবং উদ্ভাবনের প্রসারে বাজেটে ১ লক্ষ কোটি টাকার তহবিল গড়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

রোজগার মেলার মাধ্যমে রেলওয়েতেও নিয়োগ হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষ ভ্রমণের সময় রেলকেই প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নিয়ে থাকেন। ভারতে রেল একটি বিশাল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী দশকে এই ক্ষেত্রটি সম্পূর্ণ বদলে যাবে। তিনি বলেন, ২০১৪-র আগে রেলওয়ের প্রতি যথেষ্ট মনোযোগ দেওয়া হতো না। বর্তমানে রেলে বৈদ্যুতিকীকরণের কাজ, ডবল লাইন করার পাশাপাশি নতুন ট্রেনের উদ্বোধন এবং যাত্রী সুবিধা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০১৪র পর রেলের আধুনিকীকরণ এবং উন্নীতকরণে নজর দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের মতো ৪০ হাজার আধুনিক কামরা তৈরি করা হবে এবং এ বছরের বাজেটের ঘোষণা অনুযায়ী সেগুলি সাধারণ ট্রেনে যুক্ত করা হবে। এরফলে যাত্রী সাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধি পাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি৷

যোগাযোগের সুদূরপ্রসারী প্রভাবের ওপর আলোকপাত করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার ফলে নতুন নতুন বাজার, পর্যটনের প্রসার, নতুন নতুন বাণিজ্য এবং কয়েক লক্ষ কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নকে ত্বরাণ্বিত করতে পরিকাঠামোয় লগ্নি বৃদ্ধি করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, সাম্প্রতিক বাজেটে পরিকাঠামো লগ্নির জন্য ১১ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তিনি বলেন, নতুন রেলপথ, সড়ক, বিমান বন্দর এবং জলপথ প্রকল্প নতুন কর্মসংস্থানের সুবিধা সৃষ্টি করবে।

নতুন নিযুক্তির অধিকাংশই আধা-সামরিক বাহিনীতে হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন আধা-সামরিক বাহিনীর জন্য বাছাই প্রক্রিয়ায় সংস্কারের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী৷ তিনি জানান, এবারের জানুয়ারি মাসের পরীক্ষা হিন্দি এবং ইংরাজি ছাড়াও ১৩টি ভারতীয় ভাষায় অনুষ্ঠিত হবে। এরফলে লক্ষ লক্ষ প্রার্থী প্রত্যেকে সমান সুবিধা পাবে। তিনি আরও জানান, সীমান্ত ও সন্ত্রাসবাদ প্রভাবিত জেলাগুলিতে নিয়োগের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

বিকশিত ভারতের যাত্রায় সরকারি কর্মীদের ভূমিকার ওপর আলোকপাত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ১ লক্ষের বেশি কর্মযোগী যাঁরা আজ কাজে যোগ দিচ্ছেন তাঁরা ওই যাত্রাপথে নতুন প্রাণশক্তি এবং গতি যোগাবেন। দেশ গঠনে তাদের প্রত্যেকটি দিন নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। কর্মযোগী ভারত পোর্টাল সম্পর্কে তিনি বলেন, যেখানে ৮০০র বেশি পাঠক্রম আছে, যার ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩০ লক্ষ, চাকুরীপ্রত্যাশীদের তার পূর্ণ সুযোগ সদ্বব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *