ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, গণতন্ত্রের পাশ্চাত্য ধ্যানধারণার তুলনায় অনেক বেশি প্রাচীন, এজন্য ভারতকে ‘গণতন্ত্রের জননী’ বলা হয়ে থাকে : রাষ্ট্রপতি

নয়াদিল্লি, ২৫ জানুয়ারি : ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, গণতন্ত্রের পাশ্চাত্য ধ্যানধারণার তুলনায় অনেক বেশি প্রাচীন| এজন্য ভারতকে ‘গণতন্ত্রের জননী’ বলা হয়ে থাকে| পঁচাত্তরতম সাধারণতন্ত্র দিবসের প্রাকসন্ধ্যায় সমগ্র দেশবাসীকে হার্দিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে একথা বলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তিনি বলেন, যখন পেছন ফিরে দেখি যে কত প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও আমরা কতটা দীর্ঘ যাত্রাপথ অতিক্রম করে ফেলেছি, তখন আমার হৃদয় গর্বে ভরে যায়| আমাদের সাধারণতন্ত্রের পঁচাত্তরতম বছরটি নানা দিক থেকে দেশের অগ্রগতিতে একটি ঐতিহাসিক পর্যায়| এটি উৎসব উদযাপনের বিশেষ উপলক্ষ, যেমনটি আমরা, স্বাধীনতার পঁচাত্তর বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ‘স্বাধীনতার অমৃত মহোৎসব’ এর সময় আমাদের দেশের অতুলনীয় মাহাত্ম এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতির উৎসব উদযাপন করেছিলাম!  

তিনি বলেন, আগামীকাল আমরা সংবিধান সূচনার উৎসব পালন করবো। সংবিধানের প্রস্তাবনা ‘আমরা, ভারতের জনগণ’ এই শব্দগুলি দিয়ে শুরু হয়| এই শব্দমালা আমাদের সংবিধানের মূল ভাবনাকে তুলে ধরে| ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, গণতন্ত্রের পাশ্চাত্য ধ্যানধারণার তুলনায় অনেক বেশি প্রাচীন| এজন্য ভারতকে ‘গণতন্ত্রের জননী’ বলা হয়ে থাকে|    

তাঁর কথায়, এক দীর্ঘ এবং কঠিন লড়াইয়ের পর ১৯৪৭-এর ১৫ই আগস্ট আমাদের দেশ বিদেশী শাসন থেকে মুক্তি পেয়েছে| কিন্তু, তখনও, দেশে সুশাসন তথা দেশবাসীর অন্তর্নিহিত ক্ষমতাগুলি এবং প্রতিভার অবাধ বিস্তারের স্বার্থে, উপযুক্ত মৌলিক নীতি ও প্রক্রিয়া প্রণয়নের কাজ চলছিল। সংবিধান সভা প্রায় তিন বছর ধরে সুশাসনের সমস্ত দিক নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছে আর আমাদের জাতির মহান মৌলিক গ্রন্থ, অর্থাৎ, ভারতের সংবিধান রচনা করেছে।এই দিনে, আমরা সকল দেশবাসী কৃতজ্ঞচিত্তে সেই দূরদর্শী জননেতাদের এবং আধিকারিকদের স্মরণ করি, যাঁরা আমাদের মহান ও অনুপ্রেরণাদায়ী সংবিধান প্রণয়নে অমূল্য অবদান রেখেছিলেন।

তিনি বলেন, আমাদের দেশ স্বাধীনতার শতবর্ষের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথে অমৃতকালের প্রাথমিক পর্যায় অতিক্রম করছে। এটি একটি যুগান্তকারী পরিবর্তনের সময়। আমরা আমাদের দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছি। আমাদের লক্ষ্য অর্জনে প্রত্যেক নাগরিকের অবদান গুরুত্বপূর্ণ হবে। এ জন্য আমি সকল দেশবাসীকে সংবিধানে বর্ণিত আমাদের মৌলিক কর্তব্যগুলি পালনের অনুরোধ জানাবো। স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে ভারতকে একটি উন্নত দেশ হিসাবে গড়ে তুলতে এই কর্তব্যগুলি পালন প্রত্যেক নাগরিকের অপরিহার্য দায়িত্ব। এ প্রসঙ্গে মনে পড়ে মহাত্মা গান্ধীর কথা। বাপু ঠিকই বলেছিলেন, ‘যারা শুধু অধিকার চেয়েছেন, এমন কোনও নাগরিকই উন্নতি করতে পারেননি। কেবল সেই নাগরিকরাই উন্নতি করতে পেরেছেন, যাঁরা তাদের কর্তব্যকে ধার্মিক রূপে পালন করেছেন’।

তিনি বলেন, সাধারণতন্ত্র দিবস আমাদের মৌলিক মূল্যবোধ এবং নীতিগুলিকে স্মরণ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। যখন আমরা, এগুলির মধ্যে কোনও একটি বুনিয়াদী সিদ্ধান্ত নিয়ে  ভাবি, তখন স্বাভাবিকভাবেই অন্য সমস্ত সিদ্ধান্তে আমাদের নজর পড়ে। সংস্কৃতি, বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের বৈচিত্র্য আমাদের গণতন্ত্রের একটি অন্তর্নিহিত মাত্রা। আমাদের বৈচিত্র্যের এই উৎসব সাম্যভিত্তিক যাকে ন্যায়ের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হয়। এসব, স্বাধীনতার আবহেই সম্ভব হয়। এই মূল্যবোধগুলি এবং সিদ্ধান্তগুলির সমগ্রতাই আমাদের ভারতীয়ত্বের ভিত্তি। ডক্টর  বি. আর. আম্বেদকরের আলোকিত দিকনির্দেশের অনুসারী এই মূল্যবোধ ও সিদ্ধান্তগুলির আবহে আমাদের সংবিধানের নিহিত চেতনা, সকল প্রকার বৈষম্য দূর করতে সামাজিক ন্যায়বিচারের পথে আমাদের অবিচল রেখেছে।

তিনি উল্লেখ করতে চেয়েছেন, গতকাল শ্রী কর্পুরী ঠাকুর জির জন্মশতবর্ষ উদযাপন সম্পন্ন হয়েছে| তিনি সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য অবিরাম লড়াই চালিয়েছিলেন । কর্পুরী জি ছিলেন অনগ্রসর শ্রেণীর অন্যতম সেরা ভরসা,  যিনি তাদের কল্যাণে তাঁর সমগ্র জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তার জীবন ছিল মূর্তিমান ভরসার বার্তা। আমি কর্পুরী জিকে তাঁর অবদানের মাধ্যমে জনজীবনকে সমৃদ্ধ করার জন্য আমার শ্রদ্ধা জানাই।

তিনি বলেন, আমাদের সাধারণতন্ত্রের মূল চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে ১৪০ কোটিরও বেশি ভারতীয় আত্মীয়রূপে বসবাস করে। এই বিশ্বের বৃহত্তম পরিবারের জন্য, সহ-অবস্থানের ভাবনা, ভূগোল দ্বারা চাপিয়ে দেওয়া বোঝা নয়, বরং মিলিত উচ্ছ্বাসের এক সহজ স্রোতধারা, যা আমাদের সাধারণতন্ত্র দিবস উদযাপনে অভিব্যক্ত হয়।

সাথে তিনি যোগ করেন, এই সপ্তাহের শুরুতে আমরা সবাই অযোধ্যায় প্রভু শ্রী রামের জন্মস্থানে তৈরী সুরম্য মন্দিরে স্থাপিত মূর্তির প্রাণ প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক সমাবেশ দেখেছি| ভবিষ্যতে যখন এই ঘটনাকে ব্যাপক পরিপ্রেক্ষিতে দেখা হবে, তখন ইতিহাসবিদরা, একে নিজের সভ্যতার ঐতিহ্য রক্ষায় ভারতের নিরলস অনুসন্ধানমূলক প্রচেষ্টার যুগান্তকারী অঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করবেন| যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং দেশের সর্বোচ্চ বিচারালয়ের সিদ্ধান্তের পর মন্দির তৈরির কাজ শুরু হয়! এখন তা এক সুরম্য স্থাপত্যশিল্প রূপে শোভিত হচ্ছে| এই মন্দির শুধুমাত্র প্রত্যেক মানুষের ভক্তির বহিঃপ্রকাশই নয়, বরং দেশের বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়ার প্রতি আমাদের দেশের মানুষের অগাধ আস্থার প্রমাণও বটে!

তিনি বলেন, আমাদের জাতীয় উৎসবগুলি এমনই গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ যখন আমরা অতীতের দিকে দৃষ্টিপাত করি এবং ভবিষ্যতের দিকেও তাকাই। গত সাধারণতন্ত্র দিবসের পর থেকে এক বছরের দিকে তাকালে আমরা অত্যন্ত আনন্দ অনুভব করি। ভারতের সভাপতিত্বে দিল্লিতে জি-টুয়েন্টি  শীর্ষ সম্মেলনের সফল আয়োজন ছিল একটি অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা । জি-টুয়েন্টি সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিগুলিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছিল বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। এই কর্মসূচিগুলিতে ভাবনা এবং পরামর্শের প্রবাহ উপর থেকে নীচে নয়, নীচে থেকে উপরের দিকে ছিল। সেই জমকালো অনুষ্ঠান থেকে একটা শিক্ষাও পাওয়া গেছে যে, সাধারণ নাগরিকদেরও এমন গভীর ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন আলোচনায় অংশগ্রহণ করানো যেতে পারে, যা শেষপর্যন্ত তাদের নিজেদের ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করে। জি-টুয়েন্টি  শীর্ষ সম্মেলন গ্লোবাল সাউথ-এর কণ্ঠস্বর রূপে ভারতের উত্থানকেও উৎসাহ জুগিয়েছে, যার ফলে আন্তরদেশীয় বার্তালাপ প্রক্রিয়ায় একটি অপরিহার্য উপাদান সমাবিষ্ট হয়েছে। 

তাঁর বক্তব্য, সংসদে যখন ঐতিহাসিক মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ হলো তখন আমাদের দেশ নারী পুরুষের সমানাধিকারের আদর্শ অভিমুখে আরও এগিয়ে গেলো| আমি বিশ্বাস করি, ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ মহিলা ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে এক বিপ্লবাত্মক মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে! এর ফলে আমাদের প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে উন্নততর করার ক্ষেত্রেও অনেক সাহায্য পাওয়া যাবে! যখন সার্বিক গুরুত্বের বিষয়গুলিতে মহিলাদের অংশিদারিত্ব বাড়বে, তখন আমাদের প্রশাসনিক অগ্রাধিকারগুলির সঙ্গে জনগণের প্রয়োজনগুলির উন্নততর সামঞ্জস্য তৈরী হবে|

তিনি বলেন, একই সময়ে, ভারত চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে অবতরণকারী প্রথম দেশ হয়ে ওঠে। চন্দ্রযান-৩-এর পর ইসরো একটি সৌর মিশনও চালু করেছে। সম্প্রতি আদিত্য এল ওয়ান সফলভাবে ‘হ্যালো অরবিটে’ স্থাপন করা হয়েছে। ভারত তার প্রথম এক্স-রে পোলারিমিটার স্যাটেলাইট, এক্সোস্যাট  উৎক্ষেপণ দিয়ে নতুন বছর শুরু করেছে। ‘ব্ল্যাক হোল’-এর মতো মহাকাশের বিভিন্ন রহস্য নিয়ে গবেষণা করবে এই কৃত্রিম উপগ্রহ।২০২৪ সালে আরও অনেক মহাকাশ অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এটা আনন্দের বিষয় যে ভারতের মহাকাশ যাত্রায় অনেক নতুন সাফল্য অর্জিত হতে চলেছে। আমাদের প্রথম মানব মহাকাশ উড়ান কর্মসূচি, ‘গগনযান মিশন’-এর প্রস্তুতি সুচারুভাবে এগিয়ে চলেছে। আমরা সবসময় আমাদের বিজ্ঞানী এবং প্রযুক্তিবিদদের নিয়ে গর্বিত, কিন্তু এখন তাঁরা আগের থেকে বেশি উঁচু লক্ষ্য নির্ধারণ করছেন এবং সেই অনুযায়ী ফলাফল অর্জন করছেন। ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির লক্ষ্য সমগ্র মানবতার কল্যাণে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ভূমিকাকে আরও প্রসারিত ও গভীরতর করা। ISRO-র কর্মসূচির প্রতি দেশবাসীর মনে যে উৎসাহ দেখা যাচ্ছে তা নতুন আশার সঞ্চার করছে। মহাকাশ বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে নতুন সাফল্য তরুণ প্রজন্মের কল্পনাশক্তিকে নতুন ডানা জুগিয়েছে। আমি নিশ্চিত যে আমাদের শিশুকিশোর ও যুবকদের মনে বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং তাদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক মনোভাব গড়ে উঠবে। মহাকাশ বিজ্ঞানের এই অর্জনগুলো যুবকদের, বিশেষ করে তরুণীদের মনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে তাদের কাজের ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তুলতে অনুপ্রাণিত করবে।

তাঁর কথায়, আজকের ভারত আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে চলেছে। একটি সুদৃঢ় এবং সুস্থ অর্থনীতি এই আত্মবিশ্বাসের কারণও এবং পরিণামও। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, আমাদের দেশজ পণ্যের জিডিপি বৃদ্ধির হার, অন্যান্য প্রধান অর্থনীতিসম্পন্ন দেশগুলির মধ্যে সর্বোচ্চ। দৃঢ় অনুমানের উপর ভিত্তি করে, আমরা নিশ্চিত যে এই অসাধারণ অগ্রগতি ২০২৪ এবং তার পরেও অব্যাহত থাকবে। আমি একথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বলে মনে করি যে একই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার দর্শন থেকে অর্থনীতির গতি বেড়েছে, প্রত্যেক দিক থেকে উন্নয়নকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সুচিন্তিত জনকল্যাণমূলক প্রচারকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মহামারীর দিনগুলিতে, সমাজের দুর্বল শ্রেণিগুলিকে বিনামূল্যে খাদ্যশস্য সরবরাহ করার জন্য সরকার চালু প্রকল্পগুলির পরিধি বাড়িয়েছিল। পরবর্তী সময়ে, এই দুর্বল শ্রেণিগুলিকে সংকট কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করার জন্য এই কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি অব্যাহত রাখা হয়েছিল। এই উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিয়ে সরকার

আগামী পাঁচ বছরের জন্য ৮১ কোটিরও বেশি মানুষকে বিনামূল্যে খাদ্যশস্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সম্ভবত, এটি ইতিহাসে নিজস্ব ধরণের বৃহত্তম জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি।

এছাড়াও, সমস্ত নাগরিকের জীবনযাত্রাকে সহজ করার জন্য বেশ কিছু সময়নির্ধারিত পরিকল্পনাও বাস্তবায়িত করা হচ্ছে। কারও বাড়িতে নিরাপদ এবং পর্যাপ্ত পানীয় জলের সরবরাহ থেকে শুরু করে একটি বাড়ির মালিক হওয়ার মাধ্যমে নিরাপত্তার অনুভূতি, এগুলি সব মৌলিক ন্যূনতম প্রয়োজনীয়তা, বিশেষাধিকার নয়। এই বিষয়গুলি যেকোনও রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধে এবং এগুলিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে। সরকার শুধুই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের প্রসার ও প্রচার করেনি, বরং জনকল্যাণের ভাবনাকে একটি নতুন অর্থও দিয়েছে। আমরা সবাই গর্ব বোধ করব যেদিন ভারত এমন হাতেগোনা কয়েকটি দেশের অন্যতম হয়ে উঠবে যেদেশগুলিতে প্রায় কেউই গৃহহীন নয়। অন্তর্ভুক্তিমূলক কল্যাণের এই ভাবনার পাশাপাশি, ‘জাতীয় শিক্ষানীতি’-তে ডিজিটাল বিভাজন দূর করা এবং বঞ্চিত অংশের শিক্ষার্থীদের স্বার্থে সমতার ভিত্তিতে একটি শিক্ষাব্যবস্থা, বলেন তিনি।

তাঁর দাবি, আমাদের খেলোয়াড়রা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের গৌরব বাড়িয়েছে। গত বছর আয়োজিত এশিয়ান গেমসে, আমরা ১০৭টি পদক জয়ের ইতিহাস রচনা করেছি আর এশিয়ান প্যারা গেমসে আমরা ১১১টি পদক জিতেছি। এটা অত্যন্ত আনন্দের বিষয় যে মেয়েরা আমাদের পদক তালিকায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। আমাদের সেরা খেলোয়াড়দের সাফল্য শিশুদের বিভিন্ন খেলায় অংশগ্রহণ করতে অনুপ্রাণিত করেছে, এর ফলে তাদের আত্মবিশ্বাস ব্যাপকভাবে বেড়েছে। আমার বিশ্বাস, নতুন আত্মবিশ্বাসে ভরপুর আমাদের খেলোয়াড়রা আসন্ন প্যারিস অলিম্পিকে আরও ভালো নৈপুণ্য দেখাবে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে, বিশ্বের অনেক জায়গায় যুদ্ধ চলছে এবং বিশ্বের অনেক অংশ হিংসার শিকার। যখন বিবাদমান দুই পক্ষের প্রত্যেকেই বিশ্বাস করে যে শুধুমাত্র তাদের  দৃষ্টিভঙ্গিই ঠিক এবং অন্যেরটা ভুল, তখন এমন পরিস্থিতিতে সমাধানমুখী যুক্তির ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়া উচিত। দুর্ভাগ্যবশত, যুক্তির জায়গায়, পারস্পরিক ভয় এবং কুসংস্কার আবেগকে উস্কে দিয়েছে, যা তাদের লাগামহীন হিংসার পথে চালিত করেছে।বৃহৎ আকারের মানবিক ট্র্যাজেডির অনেক দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে আর আমরা সবাই এই মানবিক যন্ত্রণা অনুভব করে গভীরভাবে ব্যথিত। এহেন পরিস্থিতিতে, আমাদের ভগবান বুদ্ধের সারগর্ভ বাণী মনে পড়ে:

ন হি ভেরেণ ভেরাণি, সম্মন্তীধ কুদাচনম্

অভেরেণ চ সম্মন্তি, এস ধম্মো সনন্তনো

এর অর্থ হল: “এখানে শত্রুতাকে কখনও শত্রুতার মাধ্যমে প্রশমিত করা হয় না, বরং অ-শত্রুতার মাধ্যমে সমাধান করা হয়।এটাই চিরন্তন নিয়ম।

তিনি বলেন, বর্ধমান মহাবীর এবং সম্রাট অশোক থেকে শুরু করে জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধী পর্যন্ত, ভারত সর্বদা একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে যে অহিংসা শুধুই একটি আদর্শমাত্র নয় যা অর্জন করা কঠিন, বরং এটি একটি সুস্পষ্ট সম্ভাবনা। শুধু তাই নয়, অনেকের কাছে এটি একটি জীবন্ত বাস্তবতা। আমরা আশা করি যে বিবাদে জর্জরিত এলাকাগুলিতে, সেই বিরোধগুলির সমাধান এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার উপায় খোঁজা সম্ভব হবে।

তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক পরিবেশগত সংকট কাটিয়ে উঠতে ভারতের প্রাচীন জ্ঞান বিশ্ববাসীকে পথ দেখাতে পারে। ভারতকে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির নানা উৎসের প্রচারে এবং ‘গ্লোবাল ক্লাইমেট অ্যাকশন’ বা বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত পদক্ষেপে নেতৃত্ব প্রদান করতে দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। ভারত পরিবেশ সচেতন জীবনধারা রপ্ত করে নেওয়ার জন্য ‘লাইফ মুভমেন্ট’ শুরু করেছে। আমাদের দেশে জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যা মোকাবেলায় ব্যক্তিগত আচরণের পরিবর্তনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে আর তা বিশ্ববাসীর প্রশংসা পাচ্ছে। সব জায়গার বাসিন্দারা তাদের জীবনধারাকে প্রকৃতির সাথে খাপ খাওয়ানোর মাধ্যমে নিজেদের অবদান রাখতে পারে আর তাদের তা করা উচিত। এর মাধ্যমে শুধুই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পৃথিবীকে সংরক্ষণ করতে সাহায্য হবে না বরং, জীবনযাত্রার মানও বাড়বে।

তিনি বলেন, আমাদের স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত অমৃতকালের মধ্যে, অভূতপূর্ব প্রযুক্তিগত পরিবর্তনও ঘটতে চলেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মেশিন লার্নিংয়ের মতো প্রযুক্তিগত পরিবর্তনগুলি ইতিমধ্যেই সংবাদ শিরোনাম থেকে বেরিয়ে এসে অসাধারণ গতিতে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ হয়ে উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রেই ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, তবে অনেক উৎসাহজনক সুযোগও দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে তরুণদের জন্য। আমাদের তরুণরা বর্তমান সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে নতুন সম্ভাবনার সন্ধান করছে। তাদের পথ থেকে সমস্ত প্রতিবন্ধকতা দূর করতে এবং তাদের পূর্ণ সম্ভাবনাকে বাস্তবায়িত করতে আমাদেরকে যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে। আমাদের তরুণ প্রজন্ম চায় সবার সমান সুযোগ থাকুক। তারা সমতার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা পুরানো শব্দজাল চায় না, কিন্তু আমাদের মূল্যবান সাম্যের আদর্শের বাস্তব রূপ দেখতে চায়।

বাস্তবে, আমাদের যুবশক্তির আত্মবিশ্বাসের জোরে নির্ভর করেই ভবিষ্যত ভারত গড়ে তোলা হচ্ছে। তরুণদের মনকে তৈরি করা ও মস্তিষ্ককে শাণিত করার কাজ আমাদের শিক্ষকরা করেন যারা প্রকৃত অর্থে জাতির ভবিষ্যত গঠন করে। আমি আমাদের কৃষক এবং শ্রমিক ভাই ও বোনদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যারা নীরবে কঠোর পরিশ্রম করেন এবং দেশের ভবিষ্যত উন্নয়নে বিশাল অবদান রাখেন। প্রজাতন্ত্র দিবসের পবিত্র দিনটির প্রাকসন্ধ্যায়, সমস্ত দেশবাসী আমাদের সশস্ত্র বাহিনীগুলি, পুলিশ এবং আধা-সামরিক বাহিনীগুলিকেও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। তাঁদের সাহসিকতা ও সতর্কতা ছাড়া, আমরা যত গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছি তা সম্ভব হতো না, বলেন তিনি।

তিনি বক্তব্য শেষ করার আগে বলেন, আমি বিচার বিভাগ এবং অসামরিক প্রশাসনের সদস্যদের শুভেচ্ছা জানাতে চাই। বিদেশে নিযুক্ত ভারতীয় মিশনের আধিকারিকদের এবং প্রবাসী ভারতীয়দের আমি সাধারণতন্ত্র দিবসের অভিনন্দন জানাই। আসুন আমরা সবাই নিজেদের সাধ্যমত দেশ ও দেশবাসীর সেবায় আত্মনিয়োগ করার সংকল্প করি। এই শুভ সংকল্পটি বাস্তবায়নে আপনাদের প্রচেষ্টার জন্য আপনাদের সবাইকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *