নিজস্ব প্রতিনিধি, কৈলাসহর,১১ ডিসেম্বর : ব্যাঙ্গালোরে কাজ করতে গিয়ে যুবকের মৃতদেহ কফিনবন্দী অবস্থায় ফিরে এলো বাড়িতে। ঘটনায় শোকের ছায়া এলাকা জুড়ে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায় কিছুদিন পূর্বে কৈলাসহর কালিপুর ১৩নং ওয়ার্ড এলাকার এক যুবক বেঙ্গালুরুতে বিষপান করে আত্মহত্যা করেছে। আজ সন্ধ্যাবেলা তার কফিনবন্দি মৃতদেহ বাড়িতে ফিরল।
জানা যায় ওই এলাকার বাসিন্দা দীপক করের একমাত্র ছেলে বিশ্বজিৎ কর(২৪)। বিশ্বজিৎ কর বেশ কয়েক বছর ধরে বেঙ্গালুরুতে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে সিকিউরিটি কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিল। প্রায় সময় তার বাড়িতেও আসতো।
দুর্গাপূজার সময়ও তার নিজ ঘরে সে আসে এবং বিগত এক সপ্তাহ পূর্বে সে আবার বেঙ্গালুরুতে চলে যায় তার কাজে যোগ দেবার জন্য, এমনটাই জানিয়েছেন স্থানীয়রা। যে গত বৃহস্পতিবার রাত্রিবেলা বিশ্বজিৎ করের মা প্রীতি রানী করের কাছে ফোন আসে যে সে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে সে কি কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নিল তা এখনোও জানা যায়নি।
বিশ্বজিৎ করের পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুবই দুর্বল। সেখান থেকে তার মৃতদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা তাদের পক্ষে সম্ভব ছিলনা কেননা বিশ্বজিৎ করের মৃতদেহ বাড়িতে নিয়ে আসতে অনেক টাকার প্রয়োজন।
পরবর্তীকালে বিশ্বজিৎ করের পরিবার চন্ডিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক তথা রাজ্য সরকারের মাননীয় মন্ত্রী টিংকু রায়ের দারস্ত হন। তিনি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন ।মন্ত্রী টিংকু রায়ের সাহায্যে আজ সন্ধ্যাবেলা বিশ্বজিৎ করের কফিন বন্দি মৃতদেহ তার নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
পাশাপাশি তার বাড়িতে ছুটে যায় চন্ডিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক তথা রাজ্য সরকারের মন্ত্রী টিংকু রায় । বিশ্বজিৎ করের মৃতদেহ তার বাড়িতে নিয়ে আসার পর কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে তার পরিবারের লোকেরা। এলাকাবাসীরা মন্ত্রীর এই ধরনের উদ্যোগ দেখে খুবই খুশি। স্থানীয়দের কাছ থেকে আরো জানা যায় যে বিশ্বজিৎ করের পিতা দীপক কর একজন ঠেলাগাড়ির চালক। পাশাপাশি বিশ্বজিৎ করের মা প্রীতি রানী কর কৈলাসহর ঊনকোটি জেলা হাসপাতালের একজন সাফাই কর্মী। বিশ্বজিৎ করের মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা কৈলাসহর জুড়ে।

