নিজস্ব প্রতিনিধি, খোয়াই, ১৮ নভেম্বর : “সরকারি বেসরকারি সমবায় অংশীদারিত্বকে শক্তিশালীকরণ” – এই ভাবনাকে সামনে রেখেই রাজ্যজুড়ে ৭০তম অখিল ভারত সমবায় সপ্তাহ উদযাপন করা হচ্ছে। এরই অঙ্গ হিসেবে আজ শনিবার সমবায় দপ্তর এবং ত্রিপুরা রাজ্য সমবায় ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে খোয়াই জেলা ভিত্তিক আলোচনা চক্র অনুষ্ঠিত হয়েছে কল্যাণপুরের লোটাস কমিউনিটি হলে।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা, প্রধান অতিথি ত্রিপুরা সরকারের মাননীয় মুখ্য সচেতক কল্যাণী সাহা রায়, বিশেষ অতিথি বিধায়ক তথা ত্রিপুরা তপশিলি জাতি উন্নয়ন নিগম লিমিটেডের চেয়ারম্যান পিনাকী দাস চৌধুরী সহ সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খোয়াই জেলা সভাধিপতি জয়দেব দেববর্মা প্রমূখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই সমবায়ের পতাকা ও মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়। বিশেষ করে পরিবর্তিত সমাজ ব্যবস্থায় গ্রামীণ অর্থনীতিকে উন্নত করার মধ্য দিয়ে রাজ্যের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিমণ্ডলকে বিকশিত করতে সমবায় কিভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে এবং এই সমবায়কে সার্বিক স্বার্থে আরো কিভাবে বিকশিত করা যায়, এই বিষয়গুলোর উপর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়েছে এদিন ।
বিশেষ করে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে দাঁড়িয়েও কিভাবে সমবায়গুলো সাধারণ মানুষের অন্যতম ভরসার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে চলেছে সেই বিষয়গুলোর উপর আলোকপাত করেই অধিকাংশ বক্তারা নিজের আলোচনাকে সীমাবদ্ধ রাখেন।
নিজের আলোচনায় উদ্বোধক রাজ্যের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা বলেন, আগামী দিনে রাজ্যের সার্বিক বিকাশের স্বার্থে সমবায়ের প্রতি সাধারণ মানুষকে যেমন আরো বেশি আকৃষ্ট হওয়ার আবেদন রাখেন, ঠিক এর পাশাপাশি যারা সমবায়ের সাথে যুক্ত আছেন তাদেরও আরো বেশি করে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান রাখেন।
প্রধান অতিথি মুখ্য সচেতক কল্যাণী সাহা রায় দাবি করেন এই সময়ের মধ্যে গোটা ত্রিপুরা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সমবায় গুলো নিজ নিজ মতো করে সমাজকে বিকশিত করার জন্য, নতুনভাবে পথ দেখানোর জন্য প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে।
এদিকে নিজের আলোচনায় অংশগ্রহণ করে বিশেষ অতিথি বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী দাবি করেন ত্রিপুরা রাজ্যে একটা সময় ছিল যখন অধিকাংশ সমবায় গুলো প্রায় অস্তিত্বহীনতার মধ্য দিয়ে চলছিল, তবে বর্তমান সময়ে সরকারের নীতি নির্দেশিকার সঠিক বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে প্যেক্স এবং সমবায় গুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গোটা রাজ্যকে বিশেষ দিশা দেখাচ্ছে বলে কল্যাণপুরে দাঁড়িয়ে দাবি করেন ত্রিপুরা তপশিলি জাতি কল্যাণ নিগম লিমিটেডের চেয়ারম্যান পিনাকী দাস চৌধুরী।
পাশাপাশি শ্রী দাস চৌধুরী আশাবাদ প্রকাশ করেন আগামী দিনে সমবায় গুলোর সঠিক এবং কার্যকরী বিকাশের মধ্য দিয়ে সার্বিক অর্থনীতির বিকাশ সম্ভবপর হবে। মোট কথা বলা চলে, গোটা আলোচনা চক্রের মধ্য দিয়ে সমস্ত অংশের বক্তারাই এই সময়ের মধ্যে সমবায়ের ইতিবাচক ভূমিকার দিকে দৃষ্টি নিবন্ধ করার পাশাপাশি আগামী দিনে যাতে করে সবাই সম্মিলিতভাবে এবং সচেতনভাবে প্যাক্স এবং সমবায় সমিতি গুলোকে ব্যবহার করে অর্থনৈতিক ভাবে স্বনির্ভর হতে পারেন সেই বিষয়ে সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান রাখেন।

