হাফলং (অসম), ৯ নভেম্বর (হি.স.) : ডিমা হাসাও জেলা সদর হাফলং উপ-কারাগারে আবারও এক কয়েদির রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে। বুধবার রাতে রাজু পাল নামের এক কয়েদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক মহলে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। এছাড়া নিহত কয়েদির পরিবারে হাহাকার সৃষ্টি হয়েছে।
এনডিপিএস আইনে রাজু পালকে গত সেপ্টেম্বর মাসে হারাঙ্গাজাও থানার অন্তর্গত ডিটেকছড়া থেকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। রাজু পাল পেশায় ছিলেন একজন গাড়ি চালক। মাইবাঙের বাসিন্দা রাজু পাল ও প্রসেনজিৎ চক্রবর্তীকে নেশার ট্যাবলেট সহ গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তার পর থেকে দুজনের ঠাঁই হয়েছিল হাফলং উপ-কারাগারে।
জানা গেছে, উপ-কারাগার থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজু পালকে হাফলং সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক। তবে কীভাবে কারাগারের ভিতরে রাজু পালের মৃত্যু হয়েছে এ নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে রাজু পালের স্ত্রীর অভিযোগ, তাঁর স্বামীর মৃত্যুর পর জেল কর্তৃপক্ষ তাঁকে রাজু পাল অসুস্থ বলে জানিয়ে তাঁকে হাফলং সরকারি হাসপাতালে রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল। হাসপাতালে তিনি এসে দেখেন তাঁর স্বামীর মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। রাজুর স্ত্রীর আরও অভিযোগ, তাঁর স্বামী রাজুকে জেলের ভিতরে হত্যা করা হয়েছে। তাই তিনি এ ঘটনার নিরপেক্ষ ও উফযুক্ত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। রাজু পালের স্ত্রী জানিয়েছেন, বুধবার বিকেল চারটা নাগাদ মোবাইল ফোনে তাঁর সঙ্গে কথা হয়েছিল রাজু পালের। তখন তাঁর স্বামী সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন। অথচ রাতে কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয় রাজু পালের, এ ব্যাপারে সন্দেহ ব্যক্ত করে এর উপযুক্ত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্ত্রী।
এদিকে আজ বৃহস্পতিবার ময়না তদন্ত শেষে রাজু পালের মৃতদেহ পুলিশ সমঝে দিয়েছে তাঁর পরিবারের কাছে।
প্রসঙ্গত, হাফলং উপ-কারাগারে কয়েদির মৃত্যুর ঘটনা এটাই প্রথম নয়। গত ২০২২ সালে বার্মিজ সুপারি সহ গ্রেফতারকৃত উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা লরি চালক রাজু চৌহানের মৃত্যু হয়েছিল।

