নিজস্ব প্রতিনিধি, কৈলাশহর, ১৩ অক্টোবর : কৈলাশহরে কংগ্রেসের যিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তিনিও বিজেপির দিকে এক পা এগিয়ে রেখেছেন’- রাজীব ভট্টাচার্য। শুক্রবার কৈলাসহরে এসে দলীয় সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপি দলের রাজ্য সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য বলেন, “ বিজেপির সভাকে বিনষ্ট করতে বিজেপির সভার পাশেই এক সভা রেখেছে কংগ্রেস। তবে স্থানীয় জনগণ প্রমান করেছে এই খানে কংগ্রেসের কোনো জায়গা নেই। কংগ্রেসের যিনি সভায় যিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি বিজেপির দিকে এক কদম এগিয়ে রেখেছেন।’ এদিন নাম না করে কংগ্রেস বিধায়ক বিরজিত সিনহার দিকেই ইশারা করেছেন প্রদেশ সভাপতি।
তিনি আরও বলেন, আজকে কিছু লোক ভারতীয় জনতা পার্টিতে কংগ্রেস ও সিপিআইএম দল ত্যাগ করে যোগদান করেছেন। তারা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কংগ্রেসের অস্তিত্ব আস্তে আস্তে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বিরজিত সিনহার নাম না ধরে বলেন, বিজেপি দলের এই সভাকে বানচাল করার জন্য সভা থেকে দুই কিলোমিটার দূরে কংগ্রেস দলের যে নেতা সভা করছেন তিনিও বিজেপির দিকে এক পা এগিয়ে রেখেছেন।
উল্লেখ্য, কৈলাসহরের ইরানি বাজার সংলগ্ন মাঠে বিজেপির উদ্যোগে এক যোগদান সভা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ বিজেপি সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য, রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য টিংকু রায়, জেলা সভাপতি পবিত্র দেবনাথ, ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান মবস্বর আলী, প্রাক্তন মন্ত্রী প্রকাশ দাস, কৈলাসহর মন্ডল সভাপতি সিদ্ধার্থ দত্ত সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা।
জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী টিংকু রায় বলেন, কৈলাসহর সহ রাজ্যের বিভিন্ন বিধানসভায় আমরা জিততে পারিনি গত নির্বাচনে। অনেক জায়গার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জনগণ ভেবেছিলেন আমরা সংখ্যালঘুদের জন্য কোন কাজ করব না। এখন দেখছেন বিজেপি দল সংখ্যালঘুদের জন্য কাজ করছে। উত্তর জেলার কদমতলা বিধানসভা কেন্দ্রে ৪৫ বছর ধরে সিপিএমের বিধায়ক জয়লাভ করে আসছে। বাম আমলে এই কদমতলা থেকেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিধায়ক বনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বারবার এই আসন থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ব্যক্তি নির্বাচিত হওয়ার পরও সংখ্যালঘুদের জন্য কিছু করেননি বলে অভিযোগ করেছেন মন্ত্রী এদিন। তিনি আরও বলেন, এইসব এলাকার জনগণ আগর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বামফ্রন্ট আমলে তাদেরকে অবৈধভাবে আগর বিক্রি করতে হত। তিনি তখন চাননি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উন্নয়ন। কারণ তিনি ভেবেছিলেন সংখ্যালঘুরা ধনী হয়ে গেলে তাহলে মিছিলের লাইন লম্বা হবে না। ব্যবসায়ীদের দু’নম্বরী ভাবে ব্যবসা করতে হতো। আশি হাজার টাকার গাছ দু নম্বরী ভাবে বিক্রি করতে গিয়ে দশ থেকে পনের হাজার টাকা তারা পেতেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এইবার বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর অনেকগুলি আগরের ইউনিট তৈরি করা হয়েছে রাজ্যে আগর ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা করে। বিজেপি সরকার এভাবেই জনগণের উন্নয়নে কাজ করে যাবে বলে জানালেন মন্ত্রী টিঙ্কু রায়।
উল্লেখ্য এদিনের যোগদান সভায় বিভিন্ন দল ছেড়ে ৬৫ পরিবারের ২৬৯ জন ভোটার বিজেপি দলে যোগদান করেছেন। তাদের হাতে দলীয় পতাকা দিয়ে তাদের দলে বরণ করে নিয়েছেন বিজেপি প্রদেশ সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য।