কলকাতা, ৯ অক্টোবর (হি.স.) : “মস্তানি করবেন না, দিনকাল খুব খারাপ। বাড়িতে থাকতে চান না অন্য কোথাও পাঠাব? আগামী ৬ মাস যেন কলেজের ত্রিসীমানায় না দেখি”। সোমবার এভাবেই যোগেশচন্দ্র চৌধুরী ল’ কলেজের প্রাক্তন ৫ ছাত্রকে হুঁশিয়ারি দিলেন হাই কোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের।
ইউজিসির কোনও নিয়ম না মেনে যোগেশচন্দ্র চৌধুরী ল কলেজের কয়েকজনকে মানিক ভট্টাচার্য অধ্যাপক পদে নিয়োগ করেন বলেই অভিযোগ ওঠে। সামনে আসে অধ্যক্ষ সুনন্দা গঙ্গোপাধ্যায় এবং অধ্যাপিকা অচিনা কুণ্ডুর নাম। কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের হয়। গত বৃহস্পতিবার দুজনকেই অপসারণের নির্দেশ দেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশের পরই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কলেজে গিয়ে তালা দিয়ে দেন আইনজীবীরা। উপস্থিত ছিল চারু মার্কেট থানার পুলিশও। অধ্যক্ষের নেমপ্লেটের পাশে নোটিস দিয়ে দেওয়া হয়। ওই অধ্যক্ষ দাবি করেন তাঁর কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তাঁকে হেনস্তা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন। গত শুক্রবারের শুনানিতে ওই কলেজের সদ্য অপসারিত অধ্যক্ষ এবং অধ্যাপিকার বিরুদ্ধে সরাসরি কলকাতা হাই কোর্টে অভিযোগ জানায় রাজ্যের শিক্ষাদফতর।
যোগেশচন্দ্র চৌধুরি ল’কলেজের এক প্রাক্তন ছাত্র কলেজের অধ্যক্ষ এবং অধ্যাপকের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি বলেন, যোগেশ চন্দ্র চৌধুরী কলেজের কিছু প্রাক্তন পড়ুয়া তাঁদের ভয় দেখান। মারধরের হুমকিও দেন তাঁদের। এই মামলা শোনার পর কলকাতা পুলিশের কমিশনার এবং চারুমার্কেট থানাকে আদালত নির্দেশ দেয়, হুমকি দেওয়া ওই প্রাক্তন পড়ুয়াদের ধরে আনুন।
সোমবার আদালতের নির্দেশ মতো ওই ছাত্রদের আটক করার পর কলকাতা পুলিশের চারু মার্কেট থানার কর্তা এসেছিলেন আদালতে। তাঁকেই বিচারপতি বলেন, ‘‘ওঁদের বলে দেবেন, দিনকাল খারাপ। মস্তানি যেন না করে।’’
পাশাপাশিই বিচারপতি নির্দেশ দিয়েছেন, ‘‘অভিযুক্তদের যেন আগামী ছ’মাস কলেজ চত্বরের ত্রিসীমানায় না দেখা যায়।’’ বিচারপতি জানান পুলিশকেই এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এর পর ছাত্রদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘বাড়িতে যদি না থাকতে পারেন, তবে আমি অন্য কোথাও পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারি। আপনারা কি তা-ই চান?’’ অভিযোগকারী প্রাক্তন পড়ুয়াকেও বিচারপতি বলেন আগামী ছ’মাস কলেজমুখী না হতে।

