কুখ্যাত নেশা কারবারির হাতে অপহৃত যুবক, মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দিয়ে ফিরলেন বাড়ি, থানায় মামলা, পুলিশের ভূমিকায় ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিনিধি, বক্সনগর, ১ অক্টোবর : ত্রিপুরা রাজ্যের কুখ্যাত গাঁজা ও ইয়াবা ট্যাবলেট ব্যবসায়ী রিপন হোসেন এবং শাহ পরানদের নেতৃত্বে বিহারে পুটিয়ায় যুবককে গোপন আস্তানা আটকে রেখে মোটা অংকের মুক্তিপন চাওয়া হয়েছে। 

ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, রাজ্যের সোনামুড়া মহাকুমার অন্তর্গত বক্সনগর আর ডি ব্লকের অধীন সীমান্তবর্তী গ্রাম পুটিয়া অবস্থিত। পুটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নেহেরা খাতুনের ছেলে মনসু আহমেদ(২৫)। অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় বহিরাজ্যের চেন্নাইয়ে কর্মরত। ১০/১১ মাস ধরে মনসু আহমেদ চেন্নাইয়ে কাজে যুক্ত। তিনি চেন্নাই থেকে বাড়ি ফেরার খবরটি জানতো গাঁজা বেপারী রিপন হোসেন এবং শাহ পরান। তারা মোবাইলে মনসুর সঙ্গে যোগাযোগ করে  বলে অভিযোগ। 

অভিযোগে জানা গেছে, চেন্নাই থেকে বিহার হয়ে মনসু-কে পুটিয়া গ্রামে ফিরতে বলেছেন গাঁজা বেপারিরা। তাঁকে বিহারের জনৈক ব্যক্তির নিকট মোটা অংকের পাওনা টাকা নিয়ে আসার জন্য বলা হয়েছিল।  রিপন এবং শাহ পরান মনসু-কে জনৈক বিহারের বাসিন্দার সঙ্গে যোগাযোগের ফোন নম্বর দিয়ে দিয়েছেন। ফোনে  যোগাযোগ করে তাঁকে বিহারে যেতে বলেছে। 

অভিযোগ, সেখানে দালাল চক্র মনসু-কে আটক করে গোপন আস্তানা নিয়ে গেছে। তারপর মোটা অংকের টাকা দাবি করেছে তারা।  তাকে বাড়িতে মার কাছে ফোন করাতে বাধ্য করা হয় বলে দাবী পরিবারের।  হাত-পা বেধে মারধর করা হয়েছে তাঁকে। তিন চার দিন বেঁধে রাখে টাকার জন্য। প্রাণে মারার হুমকি পর্যন্ত দেন। এমনকি ফোনে তার মাকে সমস্ত ঘটনা খুলে বলে দেড় লক্ষ টাকা দাবি করে অপহরণকারীরা।

মা সন্তানের কান্নাকাটি দেখে বাড়ির জায়গা বিক্রি করে এক লক্ষ কুড়ি হাজার টাকা দিয়ে মনসুকে বিহার থেকে ছাড়িয়ে আনেন। মনসুর মা নেহেড়া খাতুন পুরো ঘটনাটি জেনে রিপন হোসেন এবং শাহ পরানে বিরুদ্ধে উপযুক্ত সালিশি সভার দাবি করেন। সালিশি সভায় এক লক্ষ ২০ টাকা ফেরত দেবার জন্য বলেন। তবে এখনো সেই টাকা ফিরে পাননি তারা। তারপরেই কলমচৌড়া থানায় মামলা দায়ের করেন গাঁজা ব্যবসায়ী রিপন এবং শাহ পরানের বিরুদ্ধে মনসুর ও তার পরিবার।  সুষ্ঠু বিচার পাবার আশায়  ১৫-১৬ দিন পূর্বে কলমচৌড়া থানায় মামলার দায়ের করেন।  তবে অভিযোগ, অভিযুক্তরা এখনো খোলা আকাশের নিচে ঘোরা ফেরা করছে। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করুক দাবী মনসুরের পরিবারের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *