নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১ অক্টোবর : বরিষ্ঠ সাংবাদিক প্রশান্ত সেনগুপ্তের প্রয়ানে গভীরভাবে শোকাহত রাজ্যের গোটা সাংবাদিক জগৎ। শুক্রবার ভোর রাতে জিবি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। রেখে গেছেন স্ত্রী ও পুত্র। বহুদিন ধরে মোটর নিউরন ডিসঅর্ডার রোগে ভুগছিলেন তিনি। গত ১৭ ই সেপ্টেম্বর বাড়িতে বাথরুমে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি। টিএমসি হয়ে জিবি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়। জিবি হাসপাতালে আইসিইউতে তার চিকিৎসা চলছিল। ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে শুক্রবার রাত ২:5 মিনিটে জিবি হাসপাতালের আই সি ইউতৈ মৃত্যু হয় তার। বরিষ্ঠ সাংবাদিক প্রশান্ত সেন গুপ্তের প্রয়াণে অপরিপূর্ণ ক্ষতি হয়েছে রাজ্যের সাংবাদিক জগতে।
তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন আগরতলা প্রেসক্লাব ত্রিপুরা ওয়ার্কিং জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন ও ত্রিপুরা জার্নালিস্ট ইউনিয়ন। শনিবার সকালে তার মৃতদেহ নিয়ে আসা হয় আগরতলা প্রেসক্লাব সেখানে সাংবাদিক এবং সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। এখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয় ডেইলি দেশের কথার অফিসে। সহকর্মীরা তাকে ফুল মালা দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সেখানে। বটতলা মহাশ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। উল্লেখ্য রাজ্যের বহু প্রচারিত সংবাদপত্রে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। হাসিখুশি এবং সহজ সরল সুন্দর মনের মানুষ ছিলেন তিনি। সহজেই তিনি আপন করে নিতে পারতেন সহকর্মী থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষকে। বহু কবিতা ছড়া লিখেছেন তিনি। সাহিত্য সম্মেলন হলেই তাকে এক পায়ে হাজির হতে দেখা যেত। কাঁধে ঝোলা ব্যাগ নিয়ে চোখে সানগ্লাস পড়ে লম্বা দেহের এই মানুষটিকে প্রতিটি অনুষ্ঠানে দেখা যেত। বহু সাংবাদিকদের পাঠ দিয়েছেন তিনি। তার লেখনি সংবাদপত্রে নতুন মাত্রা পেয়েছে। আগরতলা প্রেসক্লাবের সদস্য ছাড়াও ত্রিপুরা ওয়ার্কিং জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের রাজ্য সভাপতি ছিলেন প্রশান্ত সেনগুপ্ত। তার মৃত্যুতে ওয়ার্কিং জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন গভীর প্রকাশ করেছে পরিবারের প্রতি ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে।

