বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ কোম্পানি ইদানিংকালে চীন থেকে আমদানিরা পরিমান উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করার পথে হাটছে। একইসাথে, তারা ভারতকে ভবিষ্যতের রফতানির পাওয়ার হাউসগুলির তালিকায় অন্যতম উদীয়মান দেশ হিসেবে দেখছে। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের (বি সি জি) একটি প্রতিবেদনে এই অভিমত ব্যক্ত করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বাণিজ্যিক পরামর্শদান গোষ্ঠী, বি সি জি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত, মেক্সিকো এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া রফতানিযোগ্য ম্যানুফেকচারিং শিল্পের পাওয়ার হাউস হিসাবে দ্রুত আবির্ভূত হচ্ছে। এই তিনটি স্থানে রয়েছে প্রতিযোগিতামূলক স্বল্পব্যয় কাঠামো, পর্যাপ্ত শ্রমিকের বিস্তৃতি এবং বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্র জুড়ে ক্রমবর্ধমান দক্ষতা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজারের অধিকারী হওয়ায় এক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুবিধা পাচ্ছে ভারত। ইঞ্জিন এবং টারবাইন উৎপাদনকারী হিসাবে ভারত দ্রুত উন্নতি করছে এবং বিসিজি বলেছে সম্ভাব্য বিশাল দেশীয় বাজারের অধিকারী হওয়ার অতিরিক্ত সুবিধা রয়েছে৷
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ মাঝারি মাত্রার উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং শ্রমিকের সীমাবদ্ধতার কারণে আমেরিকায় ক্রমে দুশ্চিন্তা বাড়ছে মার্কিন শিল্প সংস্থাগুলির৷ এর একটি দুটো বিকল্প হল, দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পণ্য উৎপাদনের আগে উপাদানগুলির চূড়ান্ত একীকরণ (এসেম্বলিং) এবং পদ্ধতিকে মেক্সিকোতে স্থানান্তর এবং উপাদানগুলিকে জার্মানিতে স্থানান্তর করা। দ্বিতীয় বিকল্পটি হল, উপাদানগুলির একীকরণ এবং ক্রয় দুটোই ভারতে স্থানান্তর করা। তবে প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেক্সিকো-জার্মানির বিকল্প ভাবনার তুলনায় এখানে বিপণন করার সময় ধীর হবে বা স্থিতাবস্থা থাকবে, কিন্তু এতে সম্ভাব্য খরচ বাঁচবে ২৫% থেকে ৪০%৷
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ভারত একটি অত্যন্ত স্বল্পব্যয়ী প্রতিযোগিতামূলক দেশ এবং সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করেছে। যদিও ভারত সবেমাত্র একটি প্রধান রফতানিকারক দেশ হিসাবে আবির্ভূত হতে শুরু করেছে,, তবে এর একটি ব্যাপক উৎপাদন ভিত্তি রয়েছে ৷ বর্তমানে বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং ভারী যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে রাসায়নিক এবং অন্যান্য সরঞ্জামের জোগান অভ্যন্তরীণ বাজার থেকেই ভারত সমস্ত কিছু সরবরাহ করছে৷
সমীক্ষা অনুসারে, রফতানি প্ল্যাটফর্ম হিসাবে সরাসরি উৎপাদন ব্যয়ের ক্ষেত্রে ভারত একটি শক্তিশালী সুবিধা ভোগ করে আসছে৷ বিসিজির হিসাব অনুযায়ী, উৎপাদনশীলতা, সব রকমের যোগান সহায়ক সম্পদ , মাশুল এবং জ্বালানির জন্য সামঞ্জস্যযুক্ত কারখানার মজুরি সহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রর আমদানি করা ভারতীয় পণ্যের গড় স্থানীয় খরচ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পণ্যের তুলনায় ১৫% কম। তুলনায়, চীনা দ্রব্য আমদানির জন্য স্থানীয় খরচের দিকে থেকে সুবিধা মিলছে মাত্র ৪%।
ফলে, ভারত গত পাঁচ বছরে বিশ্বব্যাপী উৎপাদনে অন্যতম সুবিধাজনক দেশ হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে, এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রফতানি ২৩ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ৪৪% বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে চীন থেকে মার্কিন পণ্য আমদানি কমেছে ১০ শতাংশ।
ওই প্রতিবেদনের আরেকটি তাৎপর্য্য পূর্ণ তথ্য হলো, ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চীনা যান্ত্রিক যন্ত্রপাতির আমদানি ২৮% হ্রাস পেয়েছে। একই সময়ে মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যন্ত্র-সরঞ্জামের রপ্তানি বৃদ্ধি পায় ২১%, আসিয়ান দেশগুলো থেকে বৃদ্ধি পায় ৬১% এবং ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানির বৃদ্ধি হয় ৭০% ।
ওই প্রতিবেদনের আরেকটি তাৎপর্য্য পূর্ণ তথ্য হলো, ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চীনা যান্ত্রিক যন্ত্রপাতির আমদানি ২৮% হ্রাস পেয়েছে। একই সময়ে মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যন্ত্র-সরঞ্জামের রপ্তানি বৃদ্ধি পায় ২১%, আসিয়ান দেশগুলো থেকে বৃদ্ধি পায় ৬১% এবং ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানির বৃদ্ধি হয় ৭০% ।